গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা-য় স্ত্রী, তিন মেয়ে ও শ্যালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফোরকান মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পদ্মা নদী থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে পদ্মা সেতু-র ওপর থেকে ফোরকানের ব্যাগ ও জামাকাপড় উদ্ধার করেছিল সিআইডি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর তিনি সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পাঁচ খুনের ঘটনার পর থেকেই ফোরকান পলাতক ছিলেন। তাকে গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছিল। এর মধ্যেই পদ্মা সেতুর ওপর একটি ব্যাগ ও কিছু কাপড় পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে যাচাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেগুলো ফোরকানের।
গত ৮ মে দিবাগত রাতে কাপাসিয়ার রাউতকোনা গ্রামে প্রবাসী মনির হোসেনের ভাড়া বাসায় এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটে। নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন, তিন মেয়ে মীম (১৫), মারিয়া (৮), ফারিয়া (২) এবং শ্যালক রসুল মিয়া।
পেশায় প্রাইভেটকার চালক ফোরকান মিয়া প্রায় এক বছর আগে ওই বাড়ির নিচতলা ভাড়া নেন। তার গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদরের মেরী গোপীনাথপুর গ্রামে।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন সকালে ফোরকান তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রাশিদাকে ফোন করে জানান, তিনি পাঁচজনকে হত্যা করে পালিয়ে যাচ্ছেন। পরে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে গলাকাটা মরদেহগুলো দেখতে পান।
ঘরের মেঝেতে তিন শিশুকন্যার মরদেহ পাশাপাশি পড়ে ছিল। মা শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলে হাত-মুখ বাঁধা অবস্থায় ঝুলছিল এবং শ্যালক রসুল মিয়ার মরদেহ পাওয়া যায় বিছানার ওপর।
ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় মদের খালি বোতল, রান্না করা পায়েশ ও কোকাকোলার বোতল উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়া কিছু প্রিন্ট করা কাগজও উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ওই কাগজের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে, ফোরকান এর আগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন। একই সঙ্গে অভিযোগপত্রে স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয়ও উল্লেখ ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পারিবারিক কলহ ও পরকীয়াজনিত বিরোধের জের ধরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এর আগে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল।