বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খুলশী থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও দুই কনস্টেবলকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
নাঈম হাসান জানান, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের খেলা শেষে শুক্রবার রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অটোরিকশাযোগে বাসার উদ্দেশে রওনা দেন। এক্সপ্রেসওয়ে থেকে নামার পর লালখান বাজার এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তার অটোরিকশা থামান এবং চালকের কাগজপত্র পরীক্ষা করেন।
তার অভিযোগ, এরপর তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে গলায় ধাক্কা দিয়ে পুলিশের গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। তিনি নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিলেও ঘটনাস্থলে থাকা খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। একই সঙ্গে সাদা পোশাকে থাকা এক ব্যক্তিও তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাঈম আরও দাবি করেন, পরে তাকে খুলশী থানায় নেওয়া হয়। সেখানে ওসির কক্ষেও তাকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। ঘটনার একপর্যায়ে একটি ফোন পাওয়ার পর পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের উপকমিশনার আমিরুল ইসলাম বলেন, অটোরিকশাটির বিরুদ্ধে চোরাচালানের তথ্য ছিল। তবে সেই তথ্যের সত্যতা এবং অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে পুলিশি নিয়মকানুন অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কিছু ভুলত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে আগে থেকে অবহিত করেননি। থানায় আনার পরই তিনি জানতে পারেন যে ওই ব্যক্তি জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। পরে দুঃখ প্রকাশ করে তাকে সসম্মানে চলে যেতে বলা হয়।
ঘটনার পর এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং অভিযানে অংশ নেওয়া আরও এক কনস্টেবলকে তাৎক্ষণিকভাবে ক্লোজড করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply