যশোরের চৌগাছায় জুয়েল আহমেদ রানা (৩৫) নামে এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত জুয়েল আহমেদ রানা যুবলীগের কর্মী ছিলেন বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার রাতে চৌগাছা থানায় নিহতের স্ত্রী মায়া বেগম হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই এজাহারভুক্ত আসামি হুমায়ূন কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি স্থানীয় বিএনপির কর্মী।
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাতিবিলা ইউনিয়নের মুক্তদাহ মোড়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সকালে কয়েকজন বিএনপি কর্মী-সমর্থকের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে জুয়েল আহমেদ রানার বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। হামলাকারীরা তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে চলে যায়।
পরে স্থানীয়রা ও স্বজনরা জুয়েলকে উদ্ধার করে প্রথমে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
তবে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম দাবি করেছেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয়। তার ভাষ্য, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, মামলার আসামিরা বিএনপির কোনো পদধারী নেতা নন।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। চৌগাছা থানার ওসি মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
Leave a Reply