কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্ত দিয়ে ১২ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। তবে বিজিবি এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার সকালে প্রাগপুর সীমান্তের একটি এলাকা দিয়ে ওই ১২ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে চারজন নারী, চারজন পুরুষ এবং চারজন শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা জানান, বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে তারা দিন-রাত সীমান্তে নজরদারিতে সহায়তা করছেন। অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও তারা দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।
এদিকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবি সদস্যদের হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে সতর্কতামূলক ঘোষণা দিতে দেখা গেছে। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে টহল কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। দৌলতপুর সীমান্তের ১৪টি বর্ডার আউটপোস্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। রাতের আঁধারে বিএসএফ বিভিন্ন সময়ে পুশইনের চেষ্টা করছে বলে তারা তথ্য পেয়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে সীমান্তের আলোকসজ্জা বন্ধ করেও এ ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, পুশইনের ঘটনাগুলো নিয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে একাধিকবার পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হলেও বিএসএফ এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে ধারাবাহিক পুশইনের চেষ্টার ঘটনায় দৌলতপুরের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছেন।
বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে তাদের অভিযান, টহল ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি।
Leave a Reply