বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কাগজিখোলা সংলগ্ন চকরিয়া লাম্বা হাকখোলা পূর্ণ গ্রামে অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকা একটি বন্য মা হাতি অবশেষে মারা গেছে। শনিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হাতিটির মৃত্যু হয়। পরে মৃত হাতিটিকে ঘিরে আবেগঘন এক দৃশ্যের জন্ম দেয় অন্তত ১০টি বন্য হাতির একটি দল।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সকাল থেকেই নূর মোহাম্মদের বাড়ির পশ্চিম পাশে মা হাতিটিকে অসুস্থ ও নিস্তেজ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তার পাশেই অবস্থান করছিল একটি ছোট হাতির শাবক। কেউ কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলেই শাবকটি আতঙ্কিত হয়ে চিৎকার করছিল এবং কোনোভাবেই মায়ের পাশ ছাড়ছিল না।
স্থানীয় বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ বলেন, সকাল থেকে হাতিটিকে পড়ে থাকতে দেখি। পাশে ছোট বাচ্চাটাও ছিল। মানুষ কাছে গেলেই শাবকটি চিৎকার করছিল। দৃশ্যটি খুবই হৃদয়বিদারক ছিল।
খবর পেয়ে ঈদগাঁও বন বিভাগের কর্মকর্তা উজ্জ্বল স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ এনে হাতিটির চিকিৎসা শুরু করা হয়। তবে ততক্ষণে হাতিটি চরম অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে জানান বন কর্মকর্তারা।
বন কর্মকর্তা উজ্জ্বল বলেন, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু হাতিটির শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। রাত ১২টার দিকে এটি মারা যায়।
মা হাতিটির মৃত্যুর কিছুক্ষণ পর গভীর রাতে জঙ্গল থেকে প্রায় ১০টি বন্য হাতির একটি দল ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাতির দলটি মৃত হাতিটির আশপাশে দীর্ঘ সময় নীরবে দাঁড়িয়ে ছিল। সে সময় ছোট শাবকটিকেও মৃত মায়ের পাশেই অবস্থান করতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বন্য হাতির দলটি যেন তাদের সঙ্গীকে শেষ বিদায় জানাতেই লোকালয়ে নেমে এসেছিল। কিছুক্ষণ অবস্থান করার পর হাতির দলটি আবার পাহাড়ি বনাঞ্চলের দিকে ফিরে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাহাড়ি বনাঞ্চলে খাদ্যের সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় প্রায়ই বন্য হাতির দল লোকালয়ে চলে আসছে। দীর্ঘদিনের অপুষ্টি ও খাদ্যাভাবের কারণেই মা হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, মৃত হাতিটির শরীর থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
Leave a Reply