শেরপুরে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় গুরুতর আহত আল মুহতাছিম সাইফ (১৭) নামের এক শিক্ষার্থী ১১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন। সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
নিহত সাইফ শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের দ্বিতীয় পর্বের প্রথম শিফটের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শহরের দমদমা কালীগঞ্জ মহল্লার আব্দুল মালেকের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আজহার পরদিন ২৯ মে বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে শেরপুর শহরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় ঘুরতে যান সাইফ। এ সময় নাঈম মিয়া, পাপ্পু, স্বপন ও আরমানসহ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য সেখানে ছবি তোলার জন্য তাদের স্থানটি ছেড়ে যেতে বলেন।
সাইফ এতে রাজি না হলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা মোবাইল ফোনে আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে ডেকে এনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাইফ ও তার বন্ধুর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা সাইফকে মারধরের পাশাপাশি রাস্তার পাশে জমে থাকা পানিতে চুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। এছাড়া ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন ও সাইফের বন্ধুরা তাকে উদ্ধার করে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় গত ৬ জুন সাইফের মা রেবেকা সুলতানা বাদী হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে শেরপুর সদর থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।
শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, আহত শিক্ষার্থী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ায় মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।