ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি: পাচার ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল জোরদার

শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, উখিয়াঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫ ১৯৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্তে দিন-রাত এখন টহল দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের অস্থির পরিস্থিতি, পাচারকারীদের সক্রিয় তৎপরতা ও অনুপ্রবেশের ঝুঁকি মোকাবিলায় কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) সাড়ে ২৭ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করেছে।
বিজিবির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রতিনিয়ত সিমেন্ট, ইউরিয়া সার ও গ্যাস লাইট পাচার হচ্ছে। আবার বিপরীত দিক থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকছে ইয়াবা ও বিদেশি সিগারেট। পাচার ও অনুপ্রবেশের মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে একটি আন্তর্জাতিক অবৈধ চক্র সক্রিয় রয়েছে।
সম্প্রতি সীমান্তবর্তী চাকমা ও তঞ্চঙ্গা পাড়া এলাকা থেকে অনুপ্রবেশকারী ৮২ জনকে আটক করে পুনরায় মিয়ানমারে পুশব্যাক করেছে বিজিবি। একই সঙ্গে সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে যাতে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান না করেন। এ লক্ষ্যে মাইকিং, স্থানীয় সভা ও সরাসরি প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল আলম, পিএসসি সাংবাদিকদের বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু-ঘুমধুম সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাচার রোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনোভাবেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পণ্য বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। একইভাবে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা বা অন্যান্য মাদক যেন ঢুকতে না পারে সে জন্য সীমান্ত টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে আগের তুলনায় পাচার ও অনুপ্রবেশ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে সীমান্তের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং পাচারকারীদের কৌশলী তৎপরতা এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু-ঘুমধুম সীমান্ত বর্তমানে বিজিবির কঠোর নজরদারির আওতায়। সীমান্তের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিজিবির নিয়মিত টহল, অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সীমান্তে বিজিবির এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি: পাচার ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে টহল জোরদার

আপডেট সময় : ০৮:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের স্পর্শকাতর এলাকা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্তে দিন-রাত এখন টহল দিচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের অস্থির পরিস্থিতি, পাচারকারীদের সক্রিয় তৎপরতা ও অনুপ্রবেশের ঝুঁকি মোকাবিলায় কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) সাড়ে ২৭ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে টহল ও গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করেছে।
বিজিবির নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রতিনিয়ত সিমেন্ট, ইউরিয়া সার ও গ্যাস লাইট পাচার হচ্ছে। আবার বিপরীত দিক থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকছে ইয়াবা ও বিদেশি সিগারেট। পাচার ও অনুপ্রবেশের মাধ্যমে দুই দেশের সীমান্তজুড়ে একটি আন্তর্জাতিক অবৈধ চক্র সক্রিয় রয়েছে।
সম্প্রতি সীমান্তবর্তী চাকমা ও তঞ্চঙ্গা পাড়া এলাকা থেকে অনুপ্রবেশকারী ৮২ জনকে আটক করে পুনরায় মিয়ানমারে পুশব্যাক করেছে বিজিবি। একই সঙ্গে সীমান্তে বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে বারবার সতর্ক করা হচ্ছে যাতে তারা শূন্যরেখায় অবস্থান না করেন। এ লক্ষ্যে মাইকিং, স্থানীয় সভা ও সরাসরি প্রচারণার মাধ্যমে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) এর অধিনায়ক লে. কর্নেল খায়রুল আলম, পিএসসি সাংবাদিকদের বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ি তুমব্রু-ঘুমধুম সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পাচার রোধে বিজিবি সর্বদা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনোভাবেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে পণ্য বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। একইভাবে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা বা অন্যান্য মাদক যেন ঢুকতে না পারে সে জন্য সীমান্ত টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে আগের তুলনায় পাচার ও অনুপ্রবেশ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে সীমান্তের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং পাচারকারীদের কৌশলী তৎপরতা এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির তুমব্রু-ঘুমধুম সীমান্ত বর্তমানে বিজিবির কঠোর নজরদারির আওতায়। সীমান্তের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিজিবির নিয়মিত টহল, অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সীমান্তে বিজিবির এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ না থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারত।