মেহেরপুরে ইউপি চেয়ারম্যানের চেয়ার দখল নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ
- আপডেট সময় : ০২:৪৪:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ার দখলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলফাজ উদ্দীন কালুসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে আলফাজ উদ্দীন কালু (৬০), রাইপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেন (৪০), বিএনপি কর্মী খাইরুল ইসলাম (৪৪) ও রাসেল হোসেন (৪২) রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অন্যদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আহতদের মধ্যে আলফাজ উদ্দীন কালু ও খাইরুল ইসলামের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়। তাদের মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুলাই বিপ্লবের পর রাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সাকলায়েন ছেপু পরিষদে প্রবেশ করতে পারেননি। তার অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন বিএনপি নেতা সারগিদুল ইসলাম। তবে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে আসছিল বিএনপির একটি পক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার দুপুরে ওই পক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম সাকলায়েন ছেপুকে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের চেয়ার দখলের চেষ্টা করে। বিষয়টি ঠেকাতে আগে থেকেই পরিষদের সামনে লোকজন নিয়ে অবস্থান নেন সারগিদুল ইসলামের সমর্থকরা। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বাংলাদেশ পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী–এর পৃথক দুটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া খেয়ে উভয় পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।
হেমায়েতপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ অতুল জোয়ার্দ্দার জানান, বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।



















