ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাল ১৫ জাহাজ

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১১:১৭:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংঘাত শুরুর আগেই প্রায় আড়াই লাখ টন এলএনজি এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি ও শিল্প কাঁচামাল নিয়ে ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো শুরু করেছে। এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে ধাপে ধাপে জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং সেখান থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত চারটিতে মোট প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে, যা মূলত কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আনা হয়েছে। এই গ্যাস দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় চাহিদা মেটাতে ব্যবহার হবে। এছাড়া একটি জাহাজে এলপিজি এসেছে, যা গৃহস্থালি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ছোট শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হবে।

কয়েকটি কার্গো জাহাজে এসেছে ফার্নেস ওয়েল, ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য। অন্যদিকে, কিছু জাহাজে এসেছে রাসায়নিক পদার্থ, পেট্রোকেমিক্যাল উপকরণ ও প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল, যা দেশের উৎপাদনমুখী শিল্পে ব্যবহার হবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। তাই সংঘাতের আগে জাহাজগুলো নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছানো দেশের জ্বালানি ও আমদানি সরবরাহের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বন্দরে জাহাজ ভেড়ানো, পণ্য খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। জাহাজগুলোর মধ্যে ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামের এলএনজি ট্যাংকারও রয়েছে। এ ছাড়া একটি এলএনজিবাহী জাহাজ ‘লিবারেল’ এখনো হরমুজ প্রণালিতে রয়েছে।

স্থানীয় এলএনজি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ জাহাজ ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সংঘাতের আগে জাহাজগুলো নিরাপদে পৌঁছানো দেশকে জ্বালানি ও আমদানি সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বস্তি দিচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাল ১৫ জাহাজ

আপডেট সময় : ১১:১৭:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংঘাত শুরুর আগেই প্রায় আড়াই লাখ টন এলএনজি এবং বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি ও শিল্প কাঁচামাল নিয়ে ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো শুরু করেছে। এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল এবং শিল্পকারখানার কাঁচামাল রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে ধাপে ধাপে জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাচ্ছে এবং সেখান থেকে পণ্য খালাসের কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত চারটিতে মোট প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে, যা মূলত কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আনা হয়েছে। এই গ্যাস দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানায় চাহিদা মেটাতে ব্যবহার হবে। এছাড়া একটি জাহাজে এলপিজি এসেছে, যা গৃহস্থালি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ছোট শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হবে।

কয়েকটি কার্গো জাহাজে এসেছে ফার্নেস ওয়েল, ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্য। অন্যদিকে, কিছু জাহাজে এসেছে রাসায়নিক পদার্থ, পেট্রোকেমিক্যাল উপকরণ ও প্লাস্টিক শিল্পের কাঁচামাল, যা দেশের উৎপাদনমুখী শিল্পে ব্যবহার হবে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। তাই সংঘাতের আগে জাহাজগুলো নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছানো দেশের জ্বালানি ও আমদানি সরবরাহের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, বন্দরে জাহাজ ভেড়ানো, পণ্য খালাস ও সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। জাহাজগুলোর মধ্যে ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামের এলএনজি ট্যাংকারও রয়েছে। এ ছাড়া একটি এলএনজিবাহী জাহাজ ‘লিবারেল’ এখনো হরমুজ প্রণালিতে রয়েছে।

স্থানীয় এলএনজি প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ জাহাজ ইতোমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সংঘাতের আগে জাহাজগুলো নিরাপদে পৌঁছানো দেশকে জ্বালানি ও আমদানি সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বস্তি দিচ্ছে।