সিলেটে দুই ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় চক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১০:৫৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ মার্চ ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
সিলেট নগরে দুই ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও মুক্তিপণ আদায় করার অভিযোগে ১০ সদস্যের এক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে অপহৃত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রও জব্দ করা হয়।
রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরের জিন্দাবাজার তাতীপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করে। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম রাত ১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, সন্ধ্যায় তাঁতিপাড়া পয়েন্ট থেকে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার মাহতাবপুর গ্রামের মৃত খোকা সরকার–এর ছেলে এবং নগরের গোয়াবাড়ি এলাকার বাসিন্দা সুহেল সরকার (২২)–কে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়। ১৪–১৫ জন দুর্বৃত্ত তাকে নগরের তাঁতিপাড়ার ‘নাজমা নিবাস’ ভবনের দ্বিতীয় তলায় আটকে রাখে।
অপহরণকারীরা ধারালো ছুরি ও কাঁচি দিয়ে ভয়ভীতি দেখায়, লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধর করে এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। একপর্যায়ে নগদ টাকা আদায় করা হয় এবং ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে নেয়া হয়। পরে ভিকটিমকে উলঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
সুহেল সরকার বিষয়টি থানায় জানালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁতিপাড়ার ‘নাজমা নিবাস’ ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
- গোটাটিকর এলাকার তানজিম মাহবুব নিশান (২১),
- শাহজালাল উপশহর এলাকার আহসান হাবিব মুন্না (১৯),
- সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মন্ডলপুর গ্রামের জুবাইন আহমদ (১৯),
- জালালাবাদ থানার আমানতপুর এলাকার সুফিয়ান আহমদ (১৯),
- এয়ারপোর্ট থানার চৌকিদেখী এলাকার জাকির হোসেন (১৯),
- কাজীটুলা এলাকার মারজান (১৯),
- সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার রায়সত্তরপুর গ্রামের মোসাদ্দেক আলী (১৮),
- হাওয়াপাড়া এলাকার ফারদিন আহমদ (১৮),
- শিবগঞ্জ মজুমদারপাড়ার জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮),
- হাওয়াপাড়া এলাকার মিজান আহমদ (১৮)।
অভিযানকালে তাদের হেফাজতে থাকা অপর ভিকটিম জাহিদ আহমদ (৪২)–কেও উদ্ধার করা হয়। তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা এলাকার বাসিন্দা।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















