সংবাদ শিরোনাম ::
পর্যাটন নগরী কক্সবাজার হোটেল ব্যবসায়ী সংকট : কর্মহীন হাজারো শ্রমিক
শাকুর মাহমুদ চৌধুরী, (উখিয়া) কক্সবাজার প্রতিনিধি
- আপডেট সময় : ০৩:২৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬ ২৯ বার পড়া হয়েছে
অফসিজনের প্রভাবে পর্যাটন নগরী কক্সবাজার-এ হোটেল-রিসোর্ট খাতে দেখা দিয়েছে গভীর মন্দা। পর্যটকের আনাগোনা কমে যাওয়ায় শহরের ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেলের অধিকাংশ কর্মী ছুটিতে, ফলে হাজারো শ্রমিক কার্যত কর্মহীন জীবন কাটাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে পর্যটকের ঢল না নামা পর্যন্ত এ সংকট কাটার সম্ভাবনা কম।
কক্সবাজার হোটেল মোটেল মালিক ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, বর্তমানে পর্যটন মৌসুম নয়- তাই অধিকাংশ কর্মী ছুটিতে আছেন। সীমিত জনবল নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো চালু রেখে এই সময়টায় হোটেল ভবনের মেরামত, রঙ করানো, কক্ষ সংস্কার, বৈদ্যুতিক ও স্যানিটেশন লাইনের উন্নয়নসহ সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে।
তার ভাষ্য, ঈদের সময় পর্যটক বাড়লে বন্ধ থাকা সেবাগুলো দ্রুত চালু করা হবে এবং ছুটিতে থাকা কর্মীদের কাজে ফিরিয়ে আনা হবে। বালিয়াড়িতে সাগরলতার বিস্তার, সৈকতে নতুন নান্দনিকতা
মানুষের ভিড় কমে যাওয়ায় সৈকতের বালিয়াড়িতে বেড়েছে ‘রেলরোড ভাইন’ নামে পরিচিত সাগরলতা।

পরিবেশবিদদের মতে, এই উদ্ভিদ বালুকাবেলার প্রাকৃতিক ঢাল রক্ষা করে, উড়ন্ত বালুরাশি আটকে দেয় এবং নতুন বালিয়াড়ি গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে- যা উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
এদিকে বঙ্গোপসাগর থেকে মাছ ধরতে যাওয়া কিছু ট্রলার বালিয়াড়িতে নোঙর করে আছে। রঙিন সাজে সাজানো এসব ট্রলার পর্যটকশূন্য সৈকতে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। অফসিজনের নীরবতায় সৈকতের প্রাকৃতিক রূপ যেন আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় এনজিও কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন বলেন, সাগরের গর্জন শুনেই আমার বেড়ে ওঠা। শহরের বাহারছড়ায় জন্ম। প্রতিদিন সকালে হাঁটতে এসে দেখি সাগরলতার বিস্তার- এটা চোখ জুড়ানো দৃশ্য। ছোটবেলায় সৈকতের বড় অংশজুড়ে সাগরলতা দেখতাম, এখন তেমনটা কম দেখা যায়। তবে অফসিজনে এগুলোই সৈকতের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।
পর্যটন-নির্ভর কক্সবাজারে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, গাইড সার্ভিস ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিপুল সংখ্যক মানুষের আয়ের প্রধান উৎস পর্যটক। অফসিজনের দীর্ঘ সময়জুড়ে বুকিং কমে যাওয়ায় কর্মচারীদের বড় অংশ বেতনবিহীন ছুটিতে- অনেকেই বিকল্প কাজের সন্ধানে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুমি এই ধাক্কা সামাল দিতে সুদমুক্ত ঋণ, কর-রেয়াত, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং পর্যটন পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো জরুরি।ঈদকেন্দ্রিক প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পর্যটন সংশ্লিষ্টদের আশা, ঈদের দ্বিতীয় দিন থেকেই পর্যটকের সংখ্যা বাড়তে শুরু করবে এবং নতুন মৌসুমের সূচনা হবে। স্থানীয়রা মনে করেন, বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের স্বকীয়তা ধরে রাখতে অবকাঠামো আধুনিকায়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি, বিজ্ঞানভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন- যাতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য অক্ষুণ্ণ থাকে এবং পর্যটন খাত টেকসইভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।
অফসিজনের নীরবতা যেমন সৈকতে প্রকৃতির পুনরুত্থান ঘটিয়েছে, তেমনি পর্যটন-নির্ভর অর্থনীতিতে তৈরি করেছে কর্মসংস্থানের শূন্যতা। ঈদ-পরবর্তী সময়ে পর্যটকের প্রত্যাবর্তনই এখন হাজারো শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর প্রধান প্রত্যাশা।



















