রমজানের শুরুতেই বাজার অস্থির, নিত্যপণ্যের চড়াদামে বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ
- আপডেট সময় : ১০:১৯:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই দেশের বিভিন্ন জেলায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে। প্রায় প্রতিটি পণ্যই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষ। রোজার প্রথম সপ্তাহেই বাড়তি খরচের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে অনেক পরিবারকে।
সুনামগঞ্জে রমজান ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পৌর শহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পেঁয়াজ, রসুন, শসা, লেবু ও গাজরের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেকটা বেড়েছে। আগে প্রতি কেজি শসা ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৮০ টাকা। গাজর ৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮০-৯০ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১২-১৩ টাকা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ১৩০ টাকা এবং চায়না রসুন মানভেদে ১৭০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচ ১৮০-২০০ টাকা কেজি পর্যন্ত উঠেছে।
মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। রুই মাছ ৩০০-৩৫০, পাবদা ৪০০-৬০০, পাঙাশ ২০০, তেলাপিয়া ১৮০-২০০, দেশি শিং ৫০০-৭০০ ও টেংরা ৪০০-৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস হাড়সহ ৭৫০ ও হাড় ছাড়া ৮৫০ টাকা কেজি। ব্রয়লার মুরগি ১৮০, সোনালি ৩০০ ও দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিম ডজনপ্রতি ১০৫-১১০ টাকা।
মুদি পণ্যের বাজারেও একই চিত্র। ছানা ৮০-৯০, মসুর ডাল ৯০, খেসারি ১০০, মুগ ডাল ১২০-১৩০, খোলা চিনি ১০৫ টাকা কেজি। দুই কেজির প্যাকেট আটা ১১০ ও ময়দা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পাইকারি সবজি বিক্রেতারা বলছেন, পরিবহন সমস্যা, চাহিদা বৃদ্ধি ও আমদানি কম থাকায় দাম বেড়েছে। কাঁচাবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা আশা করছেন, কয়েক দিনের মধ্যে দাম কিছুটা কমে আসবে। জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁর সাপাহারেও একই চিত্র। এক সপ্তাহ আগে ৮০ টাকা কেজির ছোলা এখন ৯০-১০০ টাকা। কাঁচামরিচ ১৫০-১৮০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, লেবু হালিতে ৬০-৮০ টাকা। খেজুর প্রকারভেদে ৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে, অনেক দোকানে বোতলজাত তেল পর্যাপ্ত নেই।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দুধের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। আগে প্রতি লিটার ৫০-৬০ টাকা থাকলেও রমজান শুরুর আগের দিন থেকে তা ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিলারা আকতার জানিয়েছেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কাজ করছে এবং বাজার বণিক সমিতির সহযোগিতা কামনা করেছেন।
পাবনার চাটমোহরে বেগুন ৩০-৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-৯০ টাকা কেজি হয়েছে। কাঁচামরিচ ১৬০-২০০ টাকা, লেবু ১৬০ টাকা কেজি, করলা ১৪০ টাকা। রসুন ১৮০-২০০ টাকা, আদা ১৩০-১৪০ টাকা। খেজুর ২৪০-২৫০ টাকা কেজি থেকে শুরু করে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত দামে পাওয়া যাচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৯০-২০০, লেয়ার ২৮০-৩২০, সোনালি ২৯০ ও দেশি মুরগি ৪৮০-৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কিছু মাছের দামও দ্বিগুণ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
চাটমোহর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. মোখলেছুর রহমান বিদ্যুৎ বলেন, রমজানে বাজারে কিছুটা ওঠানামা হয়, তবে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী জানিয়েছেন, ভোক্তা পর্যায়ে অতিরিক্ত মূল্য নেওয়া হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বাজার স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
রমজানের শুরুতেই এমন ঊর্ধ্বমুখী বাজার পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ কার্যকর নজরদারি ও দ্রুত স্থিতিশীলতা প্রত্যাশা করছেন।



















