ত্রয়োদশ সংসদে জামায়াতের ১২ সংরক্ষিত নারী আসন, প্রার্থী চূড়ান্ত শিগগির
- আপডেট সময় : ০৮:৪৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ১২টি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, আগামী সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই এসব আসনের জন্য প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
জামায়াতের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, সংরক্ষিত ১২টি আসনের জন্য এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়নি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে দলীয় পর্যায়ে আলোচনা চলছে। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান–এর সহধর্মিণী ডা. আমেনা বেগম অতীতে সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এবারও তিনি মনোনয়ন পেতে পারেন বলে আলোচনা রয়েছে।
এ ছাড়া জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের–এর স্ত্রী ও মহিলা বিভাগের নেত্রী হাবিবা রহমান সুইট, মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, নেত্রী ফাতেমা আক্তার হ্যাপি, মহানগর দক্ষিণের নেত্রী আয়েশা খানম ও নারী নেত্রী সাবেকুন্নাহারের নাম আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি–এর সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক মারদিয়া মমতাজকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে দল সুপরিকল্পিত অবস্থান নিয়েছে। তিনি জানান, যেসব এলাকায় দলের পুরুষ প্রার্থীরা নির্বাচিত হতে পারেননি, সেসব এলাকা থেকে যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য নারী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে সাংগঠনিক ভারসাম্য ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চায় দলটি।
প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু দলীয় পরিচয় নয়, ব্যক্তিগত যোগ্যতা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু সঠিকভাবে উপস্থাপনের সক্ষমতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও সাংগঠনিক অবদানও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
নিজে সংরক্ষিত নারী আসনে যাচ্ছেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি নিজেকে পুরোপুরি উপযুক্ত মনে করেন না। তবে সংগঠন দায়িত্ব দিলে তা পালনে প্রস্তুত আছেন।
সংসদে নারী প্রতিনিধিদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিক উপস্থিতি নিশ্চিত করাই লক্ষ্য নয়; বরং নারীর সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠা, অবিচার-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখা এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে সক্রিয় থেকে ন্যায্য অধিকার আদায়ে কাজ করাই হবে তাঁদের অঙ্গীকার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আগামী দিনে জামায়াতের নারীরা আরও সম্মুখভাগে এসে রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।
দলীয় একাধিক নেতা জানান, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে মহিলা বিভাগ একটি খসড়া তালিকা প্রস্তুত করেছে। আলোচনার মাধ্যমে তা চূড়ান্ত করা হবে এবং সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জামায়াতের নির্বাচনী বিভাগের সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা ইয়াসিন আরাফাত বলেন, খুব দ্রুতই সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নাম চূড়ান্ত করা হবে। মহিলা বিভাগের দায়িত্বশীলদের পাশাপাশি দক্ষ ও যোগ্য কিছু নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। প্রার্থীদের যোগ্যতা ও সক্ষমতাই এখানে প্রধান বিবেচ্য হবে বলে জানান তিনি।



















