দেশের ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, গণনা শুরু
- আপডেট সময় : ০৫:২৭:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে সারাদেশের ২৯৯টি আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। ভোটগ্রহণ শেষে এখন গণনার প্রস্তুতি চলছে।
সকালে সাড়ে ৭টায় দেশের ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্র থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং টানা ৯ ঘণ্টা বিরতিহীনভাবে চলেছে। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণ শেষে প্রথমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। এরপর আলাদা দলে ভাগ হয়ে গণনা করা হবে। এবারের নির্বাচনে মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
ভোটের সময় দেশব্যাপী কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। খুলনার ভৈরবে বিএনপির এক নেতা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। ভোট কেন্দ্র দখল, জালভোট দেওয়ার চেষ্টা, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। তবে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপর নজরদারিতে তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের অভিযোগ, কুমিল্লা-৮, শরীয়তপুর-২ ও পটুয়াখালী-১ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে। তাদের বক্তব্য, ওই কেন্দ্রে ভোটাররা নিরাপদে ভোট দিতে পারেননি।
এবার ভোট পরিচালনায় ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪। ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জেলা প্রশাসক, তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও ৫৯৮ সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ভোট প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন।
২৯৯ আসনের নির্বাচনে মোট ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশ নিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট প্রার্থী সংখ্যা দুই হাজার ২৮ জন, যার মধ্যে দলীয় প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ এবং স্বতন্ত্র ২৭৩। নারী প্রার্থী ৮৩ জন (৬৩ দলীয়, ২০ স্বতন্ত্র), পুরুষ প্রার্থী ১ হাজার ৯৪৬ জন (১ হাজার ৬৯২ দলীয়, ২৫৩ স্বতন্ত্র)।
ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, পুলিশ, র্যাব, আনসার ও বিএনসিসি-এর সদস্য মোতায়েন ছিল। সেনাবাহিনী এক লাখ তিন হাজার, নৌবাহিনী ৫ হাজার, বিমানবাহিনী ৩ হাজার ৫০০, বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ড ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাব ৯ হাজার ৩৪৯, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ এবং বিএনসিসি ১ হাজার ৯২২ জন।



















