মাগুরায় বিএনপি–জামায়াতের দ্বৈরথ, জয় নির্ধারণ করবে ‘সাইলেন্ট ভোটার’
- আপডেট সময় : ০১:২৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
মাগুরার নির্বাচনি মাঠে এবার নজরকাড়া প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সঙ্গী বিএনপি ও জামায়াত এবার সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াই করছেন। আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় জেলার দুই আসনেই ভোটের নিয়ন্ত্রণ এখন মূলত এই দুই দলের হাতে। তবে মাগুরা-১ ও মাগুরা-২ আসনের লড়াইয়ের ধরন ভিন্ন।
মাগুরা-১ (সদর ও শ্রীপুর) আসনে দ্বিমুখী লড়াই হচ্ছে। বিএনপির মনোয়ার হোসেন খানের বিপরীতে রয়েছে জামায়াতের আব্দুল মতিন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা, বিশেষ করে বিএনপির নৌকা প্রতীকের সঙ্গে Traditionally যুক্ত ‘ভোট ব্যাংক’। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক নির্বাচনে যারা নৌকায় ভোট দিয়েছেন, তারা এবার নিরপেক্ষ বা ‘সাইলেন্ট ভোটার’ হিসেবে ফলাফল প্রভাবিত করতে পারেন। মনোয়ার হোসেন খান এই ভোটারদের আস্থা অর্জনে নানা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, আর আব্দুল মতিন তার সাংগঠনিক শক্তি কাজে লাগাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত এই নীরব ভোটারদের পছন্দই আসনটির জয়–পরাজয় নির্ধারণ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মাগুরা-২ (মহম্মদপুর, শালিখা ও মাগুরা সদরের চারটি ইউনিয়ন) আসনে লড়াই আরও হেভিওয়েট। এখানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বনাম জামায়াতের অধ্যাপক মোশতারশেদ বিল্লাহ (এমবি বাকের) দ্বৈরথ চলছে। এই আসনে একক ভোট ব্যাংক নয়, বরং দলীয় শক্তির প্রতিযোগিতা মুখ্য। বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটার শক্তি আর জামায়াতের শৃঙ্খলিত সংগঠিত ভোটারের সংঘর্ষে কে শেষ হাসি হাসবেন, তা নিয়ে মহম্মদপুর এলাকায় চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।
মাগুরার দুই আসনে এখন মূল প্রশ্ন হলো—পর্দার আড়ালের ‘সাইলেন্ট ভোটার’ কার পক্ষে থাকবে। যেই প্রার্থীই হোক না কেন, তাদের কৌশল ও ভোটারের অব্যক্ত পছন্দই নির্ধারণ করবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য মাগুরার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ। বৃহস্পতিবারের ব্যালট যুদ্ধই এই প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর দেবে—মাগুরা কি পুরনো রাজনৈতিক প্রথা বজায় রাখবে, নাকি নতুন ইতিহাসের সাক্ষী হবে।



















