ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

নির্বাচনের আগের দিন ঢাবি উপাচার্যের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে যাচ্ছেন না। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের লক্ষ্যে আরও কিছুদিন উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাজাতে পারে। তবে তিনি জানান, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেননি

উপাচার্য বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং নির্বাচনের পর দায়িত্ব হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো শূন্যতা তৈরি করতে চাই না। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি রাজনৈতিক শিষ্টাচার, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক গতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, যেই সরকারই নির্বাচিত হয়ে আসুক, তাদের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে পদত্যাগ করলে সেটি ভুল বার্তা দিতে পারে। সে কারণেই নির্বাচন হওয়ার আগেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন, যাতে নতুন সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা মনোমালিন্যের সৃষ্টি না হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল পদত্যাগ করেন। এরপর ২৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে সাময়িকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর।

সংবাদ সম্মেলনে ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় যে প্রেক্ষাপট ছিল, সেই পরিস্থিতির অনেকটাই এখন উন্নত হয়েছে। তিনি জানান, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত থাকবেন। তবে আপাতত তিনি তার মূল পেশা শিক্ষকতায় ফিরে যেতে আগ্রহী

তিনি আরও বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ড. নিয়াজ আহমদ খান পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক চাপের ফল নয়। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নির্বাচনের আগের দিন ঢাবি উপাচার্যের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ০৪:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র একদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে তিনি দায়িত্ব ছেড়ে যাচ্ছেন না। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের লক্ষ্যে আরও কিছুদিন উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন।

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সংবাদ সম্মেলনে ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, তিনি সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাজাতে পারে। তবে তিনি জানান, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেননি

উপাচার্য বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে যাবেন এবং নির্বাচনের পর দায়িত্ব হস্তান্তরের পুরো প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো শূন্যতা তৈরি করতে চাই না। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় তিনি রাজনৈতিক শিষ্টাচার, প্রাতিষ্ঠানিক ধারাবাহিকতা ও প্রশাসনিক গতিশীলতার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন। ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, যেই সরকারই নির্বাচিত হয়ে আসুক, তাদের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করে পদত্যাগ করলে সেটি ভুল বার্তা দিতে পারে। সে কারণেই নির্বাচন হওয়ার আগেই তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করছেন, যাতে নতুন সরকারের সঙ্গে কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা মনোমালিন্যের সৃষ্টি না হয়।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল পদত্যাগ করেন। এরপর ২৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে সাময়িকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর।

সংবাদ সম্মেলনে ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় যে প্রেক্ষাপট ছিল, সেই পরিস্থিতির অনেকটাই এখন উন্নত হয়েছে। তিনি জানান, দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে প্রয়োজনে তিনি সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত থাকবেন। তবে আপাতত তিনি তার মূল পেশা শিক্ষকতায় ফিরে যেতে আগ্রহী

তিনি আরও বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো ব্যক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ড. নিয়াজ আহমদ খান পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, এই সিদ্ধান্ত কোনো রাজনৈতিক চাপের ফল নয়। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ বিবেচনা করেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন।