ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে রোয়াংছড়িতে বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির বার্তা: ভালোবাসা দিবস উদযাপন

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১২:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ছিল আলোচনা সভা, আড্ডা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং তরুণদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। বহু জাতীয় অংশগ্রহণের কারণে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ।

আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল: “ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন পোশাক—একটাই হৃদয়”, “আমাদের বৈচিত্র্য, আমাদের গর্ব” এবং “সংস্কৃতিতেই আমাদের পরিচয়—বসুন্ধরা শুভসংঘের হাত ধরে ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র, নির্ভয়”।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য অঞ্চল সমন্বয়ক ও বান্দরবানের জেলা শাখার সভাপতি উয়ই সিং মার্মা বলেন, “ভালোবাসা শুধু ব্যক্তিগত আবেগ নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও সহনশীলতার শক্ত ভিত্তি। পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের পরিচয় বহন করে। এই সংস্কৃতির মধ্য দিয়েই ভালোবাসা ও সম্প্রীতির চর্চা ছড়িয়ে দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের সম্পৃক্ত করে মানবিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রোয়াংছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি শিমল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “ভালোবাসা শুধু একটি দিনের বিষয় নয়। ভালোবাসা মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করে। আমরা যদি সবাই একে অপরকে সম্মান করি ও সহযোগিতা করি, তাহলে সমাজ আরও সুন্দর হবে।”

সাধারণ সম্পাদক মং মং সাই মার্মা জানান, “এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা। তরুণ সমাজ যদি সহিংসতা, বিদ্বেষ ও বিভাজনের পথ ছেড়ে মানবিকতা ও ভালোবাসার পথে এগিয়ে আসে, তাহলে সমাজ আরও সুন্দর হবে। ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রকাশ হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রত্নজয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “ভালোবাসা দিবস আমাদের শেখায়—সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে গ্রহণ করতে। বসুন্ধরা শুভসংঘ তরুণদের মানবিক কাজের সাথে যুক্ত করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।”

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আমর রাণী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “ভালোবাসা মানে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, এটি পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সহাবস্থানে বসবাস করছে। এই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা ও আড্ডার পাশাপাশি পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সম্প্রীতির গান এবং ভালোবাসা বিষয়ক বার্তাধর্মী কার্যক্রম।

উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি দিপা তঞ্চঙ্গ্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিলাল তঞ্চঙ্গ্যা, অর্থ সম্পাদক অংধাপ্রু মার্মা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শুব্র তঞ্চঙ্গ্যা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ওয়াংথোয়াই মার্মা, তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক অন্টার তঞ্চঙ্গ্যা, সদস্য চিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা, বাষিকা তঞ্চঙ্গ্যা, নিকারাণী তঞ্চঙ্গ্যাথুইচিংপ্রু মার্মা

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সবাই এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা শুভসংঘের সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভালোবাসা দিবসকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিকতা, সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া ছিল মূল লক্ষ্য। পার্বত্য অঞ্চলের বহুবর্ণ সংস্কৃতির মাঝে পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করাই তাদের প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে রোয়াংছড়িতে বৈচিত্র্য ও সম্প্রীতির বার্তা: ভালোবাসা দিবস উদযাপন

আপডেট সময় : ১২:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিশ্ব ভালোবাসা দিবসকে সামনে রেখে পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ছিল আলোচনা সভা, আড্ডা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং তরুণদের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক কার্যক্রম। বহু জাতীয় অংশগ্রহণের কারণে পুরো আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও অর্থবহ।

আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল: “ভিন্ন ভাষা, ভিন্ন পোশাক—একটাই হৃদয়”, “আমাদের বৈচিত্র্য, আমাদের গর্ব” এবং “সংস্কৃতিতেই আমাদের পরিচয়—বসুন্ধরা শুভসংঘের হাত ধরে ভালোবাসা ছড়িয়ে পড়ুক সর্বত্র, নির্ভয়”।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য অঞ্চল সমন্বয়ক ও বান্দরবানের জেলা শাখার সভাপতি উয়ই সিং মার্মা বলেন, “ভালোবাসা শুধু ব্যক্তিগত আবেগ নয়, এটি মানবিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি ও সহনশীলতার শক্ত ভিত্তি। পার্বত্য অঞ্চলের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি আমাদের পরিচয় বহন করে। এই সংস্কৃতির মধ্য দিয়েই ভালোবাসা ও সম্প্রীতির চর্চা ছড়িয়ে দিতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে তরুণদের সম্পৃক্ত করে মানবিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

রোয়াংছড়ি উপজেলা শাখার সভাপতি শিমল তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “ভালোবাসা শুধু একটি দিনের বিষয় নয়। ভালোবাসা মানুষের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং সম্প্রীতির বন্ধন তৈরি করে। আমরা যদি সবাই একে অপরকে সম্মান করি ও সহযোগিতা করি, তাহলে সমাজ আরও সুন্দর হবে।”

সাধারণ সম্পাদক মং মং সাই মার্মা জানান, “এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা। তরুণ সমাজ যদি সহিংসতা, বিদ্বেষ ও বিভাজনের পথ ছেড়ে মানবিকতা ও ভালোবাসার পথে এগিয়ে আসে, তাহলে সমাজ আরও সুন্দর হবে। ভালোবাসার সবচেয়ে বড় প্রকাশ হলো মানুষের পাশে দাঁড়ানো।”

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রত্নজয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “ভালোবাসা দিবস আমাদের শেখায়—সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে মানুষ হিসেবে গ্রহণ করতে। বসুন্ধরা শুভসংঘ তরুণদের মানবিক কাজের সাথে যুক্ত করে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে কাজ করছে।”

সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আমর রাণী তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, “ভালোবাসা মানে শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্ক নয়, এটি পরিবার, সমাজ, সংস্কৃতি ও মানবতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সহাবস্থানে বসবাস করছে। এই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতে সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই।”

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা ও আড্ডার পাশাপাশি পরিবেশিত হয় ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সম্প্রীতির গান এবং ভালোবাসা বিষয়ক বার্তাধর্মী কার্যক্রম।

উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি দিপা তঞ্চঙ্গ্যা, সাংগঠনিক সম্পাদক মনিলাল তঞ্চঙ্গ্যা, অর্থ সম্পাদক অংধাপ্রু মার্মা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শুব্র তঞ্চঙ্গ্যা, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ওয়াংথোয়াই মার্মা, তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক অন্টার তঞ্চঙ্গ্যা, সদস্য চিত্রা তঞ্চঙ্গ্যা, বাষিকা তঞ্চঙ্গ্যা, নিকারাণী তঞ্চঙ্গ্যাথুইচিংপ্রু মার্মা

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত সবাই এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও বসুন্ধরা শুভসংঘের সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় থাকার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভালোবাসা দিবসকে কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে মানবিকতা, সংস্কৃতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া ছিল মূল লক্ষ্য। পার্বত্য অঞ্চলের বহুবর্ণ সংস্কৃতির মাঝে পারস্পরিক সম্মান, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করাই তাদের প্রত্যাশা।