মিরপুর-১১: ঋণের বোঝায় নিঃশেষ পরিবার, চারজনের মরদেহ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ০৩:৫৬:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৯ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মিরপুর-১১ ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্প এলাকার একটি বাসা থেকে মা-বাবা এবং তাদের দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আলমগীর জাহান।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি (Criminal Investigation Department)-এর ক্রাইম সিন ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। মরদেহ উদ্ধার ও আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারটি গত কয়েক মাস ধরে গুরুতর ঋণের মধ্যে ছিল। পাওনাদারদের চাপ ও ঋণের বোঝা সহ্য করতে না পেরে তারা চরম হতাশায় পড়ে এই পথ বেছে নিতে পারে। তবে এটি কি সম্পূর্ণ আত্মহত্যা, নাকি সন্তানদেরকে প্রভাবিত করে হত্যার পর মা-বাবা আত্মহত্যা করেছে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই নিশ্চিত হবে।
ওয়াপদা বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি এলাকায় শান্ত এবং পরিচিত ছিল। তবে কয়েকদিন ধরে তাদের মধ্যে বিষণ্ণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। এক প্রতিবেশী কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমরা জানতাম তারা বিপদে আছে, কিন্তু এভাবে সবাই চলে যাবে তা কখনো ভাবিনি।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থনৈতিক সংকট ও মানসিক স্বাস্থ্যের অবহেলার মিলিত প্রভাব মানুষকে এমন চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিতে পারে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো যখন ঋণের জালে আটকা পড়ে, তখন তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মিরপুরের এই ঘটনা বর্তমান সমাজে ঋণের বোঝা ও আর্থসামাজিক নিরাপত্তার অভাবের একটি গভীর চিত্র সামনে নিয়ে এসেছে।



















