চুয়াডাঙ্গায় মাটি খুঁড়তেই মিলল পাঁচটি প্রাচীন ধাতব মূর্তি
- আপডেট সময় : ১২:০৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি খননের সময় সোনালি রঙের পাঁচটি প্রাচীন ধাতব মূর্তি উদ্ধারের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আলমডাঙ্গা উপজেলার ভাংবাড়িয়া ইউনিয়নের খোরদ গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন দিন বিষয়টি গোপন থাকার পর সোমবার ঘটনাটি জানাজানি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে খোরদ গ্রামের আব্দুল মোজামের পরিত্যক্ত একটি বাঁশবাগানে বাড়ি নির্মাণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শ্রমিকরা এক থেকে দেড় ফুট গভীর করে মাটি খনন করছিলেন। এ সময় মাটির নিচে একটি পুরাতন ধাতব কলসের সন্ধান পাওয়া যায়। কলসটি খুলে ভেতরে সোনালি রঙের পাঁচটি মূর্তি দেখতে পান শ্রমিকরা। প্রাথমিকভাবে সবাই ধারণা করেন, মূর্তিগুলো স্বর্ণের তৈরি।
পরে জমির মালিক আব্দুল মোজাম শ্রমিকদের ঘটনাটি গোপন রাখার নির্দেশ দিয়ে কলসসহ মূর্তিগুলো নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। তবে বিষয়টি গোপন রাখা সম্ভব হয়নি। স্বর্ণের মূর্তি উদ্ধারের গুজব ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের গ্রাম থেকে লোকজন খোরদ গ্রামে ভিড় করতে থাকেন।
খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যায় চুয়াডাঙ্গা-৬ ব্যাটালিয়নের (বিজিবি) একটি দল খোরদ গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানে এক কেজি ৯৮২ গ্রাম ওজনের একটি পুরাতন পিতলের কলসের ভেতর থেকে এক কেজি ৭৩২ গ্রাম ওজনের পাঁচটি ধাতব মূর্তি উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত মূর্তিগুলো চুয়াডাঙ্গা গোল্ড টেস্টিং অ্যান্ড হলমার্ক সেন্টারে পরীক্ষা করা হয়।
পরীক্ষার ফলাফলে জানা যায়, মূর্তিগুলো স্বর্ণের নয়, বরং তামার তৈরি। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মূর্তিগুলোতে ৫৩ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত তামার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
খোরদ গ্রামের বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম জানান, বাঁশবাগানে মাটি খননের সময় একটি পিতলের হাড়ি পাওয়া যায়, যার মুখ লাল কাপড় দিয়ে বাঁধা ছিল। পরে সোমবার বিকেলে বিজিবি ও পুলিশ এসে হাড়ি ও মূর্তিগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে খোরদ গ্রামের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, পাঁচটি মূর্তি দেখতে প্রাচীন স্বর্ণের মতো মনে হয়েছিল। তবে বিজিবি উদ্ধারের পর নিশ্চিত করেছে, সেগুলো স্বর্ণের নয়, তামার তৈরি।
চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান বলেন, উদ্ধার হওয়া মূর্তিগুলো সোনার তৈরি নয়। পরীক্ষায় তামার উপাদানই বেশি পাওয়া গেছে। মূর্তিগুলোর বয়স ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।



















