ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

নারীকে অপমান ও ভোটাধিকার হরণকারীরা দেশ গড়তে পারে না—বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৫৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নারীর সম্মানকে অবহেলা ও ভোটাধিকার হরণকারীরা কখনো দেশকে এগিয়ে নিতে পারে না। তিনি বলেন, যারা নারীদের অপমান করেন, তারা এর জবাব দেবেন, আর যারা জামায়াতে নারী সদস্য থাকলেও নির্বাচনী প্রচারে নিয়োজিত, তাদেরও বিষয়টি ভাবতে হবে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১টার দিকে খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে। শুধুমাত্র একটি শ্রেণি নিয়ে দেশের পুনর্গঠন সম্ভব নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি, যার অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারীসমাজকে পেছনে রেখে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে।

নির্বাচন সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই দল প্রকাশ্যে নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। সম্প্রতি তাদের এক নেতা কর্মসংস্থানে নিয়োজিত মা-বোনদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্য কলঙ্কজনক।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ তাদেরই অপমান করা হচ্ছে। তিনি নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.)-কে উদাহরণ দিয়ে বলেন, নারীর কর্মজীবনকে কোনোভাবেই অপমান করার অধিকার কারো নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে।

তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের জনসভায় বিএনপি ও ধানের শীষের এ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিগত ১৫–১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছে। এই সময়ে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। হাজার হাজার নেতাকর্মী গায়েবি মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি মানুষ টানা ১৬ বছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় নির্বাচনে ও জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেননি। কেউ মতামত প্রকাশের চেষ্টা করলে তাকে গুম বা খুন করা হয়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–অগাস্ট মাসে দেশবাসী রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছে। এখন সময় এসেছে অধিকার আদায়ের। আগামী ১২ তারিখে জনগণ সেই অধিকার প্রয়োগ করবে, যা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল।

বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা কারো মুখাপেক্ষী না থাকে।

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনা এখন মৃতপ্রায়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে এই অঞ্চলকে পুনরায় জীবন্ত শিল্পনগরীতে রূপান্তরিত করা হবে এবং নারীর পাশাপাশি পুরুষদের জন্যও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।

তরুণ সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক সহজলভ্য হবে এবং ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করা, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার উন্নয়ন ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

নারীকে অপমান ও ভোটাধিকার হরণকারীরা দেশ গড়তে পারে না—বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

আপডেট সময় : ০৩:৩১:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নারীর সম্মানকে অবহেলা ও ভোটাধিকার হরণকারীরা কখনো দেশকে এগিয়ে নিতে পারে না। তিনি বলেন, যারা নারীদের অপমান করেন, তারা এর জবাব দেবেন, আর যারা জামায়াতে নারী সদস্য থাকলেও নির্বাচনী প্রচারে নিয়োজিত, তাদেরও বিষয়টি ভাবতে হবে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১টার দিকে খুলনায় নির্বাচনী জনসভায় তারেক রহমান এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শুধু কথার ফুলঝুরি নয়, বাস্তব কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়তে হবে। শুধুমাত্র একটি শ্রেণি নিয়ে দেশের পুনর্গঠন সম্ভব নয়।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি, যার অন্তত ১০ কোটি নারী। এই বিশাল নারীসমাজকে পেছনে রেখে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে স্কুল থেকে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন, যাতে তারা শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে।

নির্বাচন সামনে রেখে একটি রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, ওই দল প্রকাশ্যে নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না। সম্প্রতি তাদের এক নেতা কর্মসংস্থানে নিয়োজিত মা-বোনদের উদ্দেশে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্য কলঙ্কজনক।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী পোশাকশিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ তাদেরই অপমান করা হচ্ছে। তিনি নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.)-কে উদাহরণ দিয়ে বলেন, নারীর কর্মজীবনকে কোনোভাবেই অপমান করার অধিকার কারো নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে।

তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনের জনসভায় বিএনপি ও ধানের শীষের এ সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিগত ১৫–১৬ বছরে বিএনপি বহু আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছে। এই সময়ে দলের অসংখ্য নেতাকর্মী গুম, খুন ও হত্যার শিকার হয়েছেন। হাজার হাজার নেতাকর্মী গায়েবি মামলা, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশি মানুষ টানা ১৬ বছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় নির্বাচনে ও জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারেননি। কেউ মতামত প্রকাশের চেষ্টা করলে তাকে গুম বা খুন করা হয়েছে।

তারেক রহমান আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই–অগাস্ট মাসে দেশবাসী রাজপথে নেমে স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছে। এখন সময় এসেছে অধিকার আদায়ের। আগামী ১২ তারিখে জনগণ সেই অধিকার প্রয়োগ করবে, যা এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বঞ্চিত রাখা হয়েছিল।

বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা কারো মুখাপেক্ষী না থাকে।

খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট অঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক সময়ের শিল্পনগরী খুলনা এখন মৃতপ্রায়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে এই অঞ্চলকে পুনরায় জীবন্ত শিল্পনগরীতে রূপান্তরিত করা হবে এবং নারীর পাশাপাশি পুরুষদের জন্যও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।

তরুণ সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক সহজলভ্য হবে এবং ১০ হাজার টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

তিনি বলেন, দেশের নারী সমাজকে স্বাবলম্বী করা, বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার উন্নয়ন ও উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলেই জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।