ডাকসু নিয়ে জামায়াত নেতার মন্তব্যের প্রতিবাদে ঢাবিতে বিক্ষোভ, শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ১১:৪১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৫ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মন্তব্যটিকে ‘নারীবিদ্বেষী, অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে রবিবার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন তারা। এ সময় বক্তৃতায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা কঠোর ভাষায় ওই বক্তব্যের নিন্দা জানান।
এর আগে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শামীম আহসান বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) একসময় বেশ্যাখানা ও মাদকের আড্ডা ছিল।’ তার এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
এই বক্তব্যের প্রতিবাদে রবিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। সমাবেশে নারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এমন অবমাননাকর মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন নারী শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারীদের ‘বেশ্যা’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে—এতে কি ডাকসুর কিছু যায়-আসে না? দেশের নারীদের মর্যাদা নিয়ে এ ধরনের মন্তব্যের জবাব দিতে হবে।
সমাবেশে আরেক নারী শিক্ষার্থী বলেন, নারীদের নিয়ে এমন মন্তব্য করা হলো, অথচ সরকার ও সংশ্লিষ্টরা তা হজম করছে—এটা লজ্জাজনক। তিনি ডাকসুর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তার ভাষায়, ডাকসু কেবল চোখধাঁধানো অনুষ্ঠান করে; নারীদের নিয়ে এমন অপমানজনক মন্তব্যের সময় কোনো সাংগঠনিক প্রতিবাদ দেখা যায় না। পাশের সিটে বসে থাকা ডাকসুর সদস্যদের নিয়েই যখন এমন মন্তব্য করা হয়, তখন নীরবতা আরও লজ্জার।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ডাকসুর নেতারা নিয়মিতভাবে ক্যাম্পাসে সময় দেন না এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যায় দৃশ্যমান ভূমিকা রাখেন না। একজন শিক্ষার্থী বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোট কি এ জন্যই দেওয়া হয়েছিল—যাতে তারা ক্যাম্পাসের বদলে অন্য রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যস্ত থাকে?
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ওই জামায়াত নেতার কুশপুত্তলিকাও দাহ করেন। পাশাপাশি বক্তব্য প্রত্যাহার ও প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মো. শামীম আহসানের বক্তব্যকে ‘অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ ও অর্বাচীন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তার এই মন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম ও ঐতিহ্যকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা জানান, এ ধরনের অবমাননাকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে তারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন এবং প্রয়োজন হলে আরও কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।










