ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শনের অনুমতি চাইলেন আইএইএ প্রধান রাফায়েল গ্রোসি
- আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৬ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে দ্রুত পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিখোঁজ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়ে বিস্তারিত ও ব্যাখ্যাসহ বিশেষ প্রতিবেদন জমা দিতে তেহরানের প্রতি তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের এক অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গ্রোসি বলেন, বর্তমান অচলাবস্থা দীর্ঘদিন চলতে পারে না। তার ভাষায়, “এক সময় আমাকে বলতে হবে—আমি জানি না এই উপাদানগুলো কোথায় আছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, পারমাণবিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
আইএইএ জানায়, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি—এমন ইরানের ঘোষিত ১৩টি পারমাণবিক স্থাপনা তারা ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত নাতানজ, ফোর্দো ও ইসফাহান—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় এখনো সংস্থাটির পরিদর্শকরা প্রবেশ করতে পারেননি। এসব স্থাপনায় কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং সেখানে সংরক্ষিত উপাদানের বর্তমান অবস্থান কী—তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গ্রোসি জানান, ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ প্রায় ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়ামের অবস্থান নিয়ে আইএইএ এখনো নিশ্চিত নয়। আইএইএর মানদণ্ড অনুযায়ী, এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে তাত্ত্বিকভাবে প্রায় ১০টি পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা রাখে। এ কারণেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আইএইএ প্রধান বলেন, আপাতত ওই ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে আন্তর্জাতিক আস্থা বজায় রাখতে এবং সন্দেহ দূর করতে ইরানের পূর্ণ সহযোগিতা জরুরি। তার মতে, পরিদর্শনের অনুমতি ও প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহই এ ক্ষেত্রে একমাত্র কার্যকর পথ।
পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) প্রসঙ্গে গ্রোসি বলেন, এই চুক্তি মানা কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয়। “এখানে পছন্দমতো বেছে নেওয়ার সুযোগ নেই। চুক্তির আওতায় থাকা প্রতিটি দেশকেই তার দায়বদ্ধতা পূরণ করতে হবে,”—বলেন তিনি।
আইএইএ আরও জানায়, গত সাত মাস ধরে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়মিতভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অথচ নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি মাসে এসব মজুত পরিদর্শনের কথা। পরিদর্শন বিলম্বের কারণ হিসেবে গ্রোসি ইরানের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের কথা উল্লেখ করেন।
তবে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং শিগগিরই আইএইএর পরিদর্শন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
এদিকে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথাও তুলে ধরেন আইএইএ প্রধান। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফের নেতৃত্বে চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। গ্রোসি বলেন, নতুন কোনো সামরিক সংঘাত সৃষ্টি না করে শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য সবচেয়ে জরুরি।
সর্বশেষ ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানের কার্যকর পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করা হলেও বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো এখনো যাচাই বাকি রয়েছে। আগামী দিন বা সপ্তাহের মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান আইএইএ প্রধান।























