সিরিয়ার আল-শাদ্দাদি কারাগার থেকে আইএস যোদ্ধা পালানো নিয়ে ধোঁয়াশা
- আপডেট সময় : ১১:০৩:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আল-শাদ্দাদি শহরের একটি কারাগার থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএল/আইএসআইএস) যোদ্ধারা পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ব্যাপক ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ওই কারাগার থেকে প্রায় ১২০ জন আইএস বন্দি পালিয়েছে। তবে কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) বলছে, পালানো যোদ্ধার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০।
সিরীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এসডিএফের সঙ্গে সিরীয় সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ চলাকালে আল-শাদ্দাদি কারাগার থেকে বন্দিরা পালিয়ে যায়। অন্যদিকে কুর্দি ওয়েবসাইট রুদাও এসডিএফের মুখপাত্র ফারহাদ শামির উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া আইএস সদস্যের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার।
কারাগার থেকে পালানোর ঘটনার পর সিরীয় সেনাবাহিনী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বাহিনী আল-শাদ্দাদি শহরে প্রবেশ করে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শহর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে ৮১ জন পলাতক আইএস সদস্যকে পুনরায় আটক করা হয়েছে। বাকি পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
এদিকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানার বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, আইএস যোদ্ধারা পালিয়ে যাওয়ার পর আল-শাদ্দাদি শহরে কারফিউ জারি করেছে সিরীয় সেনাবাহিনী। সোমবার আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনী জানায়, বর্তমানে তারা শহর ও সন্দেহভাজন আইএস বন্দিদের রাখা কারাগারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পালিয়ে যাওয়া যোদ্ধাদের খুঁজতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
সিরিয়ান অপারেশনস অথরিটি জানিয়েছে, রাক্কার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত আল-আকতান কারাগার ও শহরের নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোর নিয়ন্ত্রণ অভিযানের পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, এসডিএফ ইচ্ছাকৃতভাবে আইএসআইএল সদস্যদের মুক্ত করে দিয়েছে।
তবে সেনাবাহিনী কারাগার থেকে ঠিক কতজন যোদ্ধা পালিয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। অন্যদিকে এসডিএফ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, সিরীয় সেনাবাহিনীর হামলার পর তারা কারাগারের নিয়ন্ত্রণ হারায়, যদিও সেনাবাহিনী এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। এসডিএফ আরও জানিয়েছে, আল-আকতান কারাগারের আশপাশে সংঘর্ষে তাদের নয়জন সদস্য নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।























