ঢাকা ০৮:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

রড নেই তবুও নিলাম! কালীগঞ্জে প্রকৌশলী জাকিরের দুর্নীতির ‘চুরির নাটক’ ফাঁস

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১০:৪২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

এক বছরেরও আগে ৩ টি ব্রিজের পুরাতন ২৫ টন রড বিক্রির ১০ লাখ টাকা হজম করতে ১ জিডিতেই রফা দফা? বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী কর্মকর্তার নজরে আসলে পুরাতন রড নিলামের নির্দেশ দেন। কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন নিজের অপকর্ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে গত ২২ ডিসেম্বর ১টি ভুয়া এস্টিমেট তৈরি করে। ওই স্টিমেট অনুযায়ী ২৫ টন পুরাতন রড নিলামের জন্য সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  তানিয়া আক্তারকে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে গত ২৯-১২- ২০২৫ ইং তারিখে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের খবরে ১১ শত টাকা করে ১২ জন ঠিকাদার ১৫ হাজার টাকার সিডিউল ক্রয় করেন। সিডিউল কেনা ঠিকাদাররা মথুরেশ ইউনিয়নের দুধলি ব্রিজ, তারালী ইউনিয়নের তারালি ব্রিজ এবং চাম্পা ফুল ইউনিয়নের উজিরপুর ব্রিজ দেখতে গিয়ে কোন রডের খোঁজ না মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তখন তারা জানতে পারেন ১ বছরের অধিককাল আগে এই সমস্ত ব্রিজের পুরাতন রড চোরাই ভাবে ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারের জোগসাযোগে বিভিন্ন ভাংড়ী ব্যবসায়ীদের নিকট রাতারাতি বিক্রি করে দিয়েছে। মৌতলা বাজারের ভাংড়ী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের নিকট দেড় লাখ টাকার রড বিক্রির সত্যতা মেলায় থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। তখন হয়তো মনে করছিল এই রডের কোন কূলকিনারা হবে না বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী নিলামের নির্দেশ দেন। সিডিউল কেনা ঠিকাদাররা তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে যেয়ে ক্ষোভ এবং প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের  নিলামের কেনা শিডিউলের টাকা ফেরত চায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে চুরি যাওয়ার রড কিভাবে এস্টিমেট তৈরি এবং নিলাম দেওয়া হল তার কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। রড ছাড়া নিলামের বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা প্রকৌশলীর নিকট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানতে চাইলে তিনি আগেই বিক্রি হয়েছে এই অজুহাতে নিজের অপকর্ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে চুরির নাটক সাজাতে গত ৬ জানুয়ারি কালিগঞ্জ থানায় মিথ্যা  চুরির ঘটনার ১ টি সাধারণ ডায়েরি করেন। রড বিক্রির ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনায় পুরা উপজেলা জুড়ে এখন আলোচনা, সমালোচনার ঝড় বইছে। একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে কিভাবে  নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার দুঃসাহস দেখালো সে প্রশ্ন এখন মুখে মুখে। ধুরন্ধর দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী জাকির হোসেন বিগত স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগের আমলে মিস্টার পার্সেন্টিজ হিসেবে কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন রাস্তাঘাট, ব্রিজ ,নির্মাণের প্রকল্পে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বিগত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভাগাভাগির মতদ্বন্দ্বে তাকে শ্যামনগর উপজেলায় বদলি করা হয়। এখানে অল্প দিনের দুর্নীতির ছোঁয়ায় দুদকের জালে হাবু-ডুবু খেতে হয় শ্যামনগর উপজেলা বিভিন্ন প্রকল্পে। গত জুলাই আন্দোলন ৫ আগস্টের পরে আবারও কালীগঞ্জে বদলি হয়ে ফিরে এসে  বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতি চালিয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই। তবে এ প্রসঙ্গে উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা  তানিয়া আক্তারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তবে চুরির বিষয়ে জিডির কথা স্বীকার করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রড নেই তবুও নিলাম! কালীগঞ্জে প্রকৌশলী জাকিরের দুর্নীতির ‘চুরির নাটক’ ফাঁস

আপডেট সময় : ১০:৪২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

এক বছরেরও আগে ৩ টি ব্রিজের পুরাতন ২৫ টন রড বিক্রির ১০ লাখ টাকা হজম করতে ১ জিডিতেই রফা দফা? বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী কর্মকর্তার নজরে আসলে পুরাতন রড নিলামের নির্দেশ দেন। কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন নিজের অপকর্ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে গত ২২ ডিসেম্বর ১টি ভুয়া এস্টিমেট তৈরি করে। ওই স্টিমেট অনুযায়ী ২৫ টন পুরাতন রড নিলামের জন্য সদ্য যোগদান করা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  তানিয়া আক্তারকে ভুল বুঝিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে গত ২৯-১২- ২০২৫ ইং তারিখে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের খবরে ১১ শত টাকা করে ১২ জন ঠিকাদার ১৫ হাজার টাকার সিডিউল ক্রয় করেন। সিডিউল কেনা ঠিকাদাররা মথুরেশ ইউনিয়নের দুধলি ব্রিজ, তারালী ইউনিয়নের তারালি ব্রিজ এবং চাম্পা ফুল ইউনিয়নের উজিরপুর ব্রিজ দেখতে গিয়ে কোন রডের খোঁজ না মেলায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তখন তারা জানতে পারেন ১ বছরের অধিককাল আগে এই সমস্ত ব্রিজের পুরাতন রড চোরাই ভাবে ঠিকাদার ও ইঞ্জিনিয়ারের জোগসাযোগে বিভিন্ন ভাংড়ী ব্যবসায়ীদের নিকট রাতারাতি বিক্রি করে দিয়েছে। মৌতলা বাজারের ভাংড়ী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলামের নিকট দেড় লাখ টাকার রড বিক্রির সত্যতা মেলায় থলের বিড়াল বেরিয়ে পড়ে। তখন হয়তো মনে করছিল এই রডের কোন কূলকিনারা হবে না বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী নিলামের নির্দেশ দেন। সিডিউল কেনা ঠিকাদাররা তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে যেয়ে ক্ষোভ এবং প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের  নিলামের কেনা শিডিউলের টাকা ফেরত চায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন চুরির বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে চুরি যাওয়ার রড কিভাবে এস্টিমেট তৈরি এবং নিলাম দেওয়া হল তার কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি। রড ছাড়া নিলামের বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা প্রকৌশলীর নিকট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানতে চাইলে তিনি আগেই বিক্রি হয়েছে এই অজুহাতে নিজের অপকর্ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে চুরির নাটক সাজাতে গত ৬ জানুয়ারি কালিগঞ্জ থানায় মিথ্যা  চুরির ঘটনার ১ টি সাধারণ ডায়েরি করেন। রড বিক্রির ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ এর ঘটনায় পুরা উপজেলা জুড়ে এখন আলোচনা, সমালোচনার ঝড় বইছে। একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে কিভাবে  নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার দুঃসাহস দেখালো সে প্রশ্ন এখন মুখে মুখে। ধুরন্ধর দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী জাকির হোসেন বিগত স্বৈরশাসক আওয়ামী লীগের আমলে মিস্টার পার্সেন্টিজ হিসেবে কালিগঞ্জ উপজেলা জুড়ে বিভিন্ন রাস্তাঘাট, ব্রিজ ,নির্মাণের প্রকল্পে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। বিগত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ভাগাভাগির মতদ্বন্দ্বে তাকে শ্যামনগর উপজেলায় বদলি করা হয়। এখানে অল্প দিনের দুর্নীতির ছোঁয়ায় দুদকের জালে হাবু-ডুবু খেতে হয় শ্যামনগর উপজেলা বিভিন্ন প্রকল্পে। গত জুলাই আন্দোলন ৫ আগস্টের পরে আবারও কালীগঞ্জে বদলি হয়ে ফিরে এসে  বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতি চালিয়ে গেলেও দেখার কেউ নেই। তবে এ প্রসঙ্গে উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা  তানিয়া আক্তারের নিকট জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তবে চুরির বিষয়ে জিডির কথা স্বীকার করেন।