নির্বাচন সামনে বাণিজ্য মেলায় কড়া নিরাপত্তা, দাম নিয়ে অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৬:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত নাশকতার আশঙ্কায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ১৫তম দিন থেকে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মেলায় প্রবেশের আগে দর্শনার্থী, বিক্রেতা ও সংশ্লিষ্টদের ব্যাগ ও দেহ তল্লাশি করা হচ্ছে। তবে নিরাপত্তা বাড়লেও মেলায় পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি রাখার অভিযোগ করেছেন অনেক দর্শনার্থী। অন্যদিকে রোদ থাকায় আইসক্রিম বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় খুশি স্টল সংশ্লিষ্টরা।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, চারপাশে সাত শতাধিক পুলিশ সদস্য, সেনাবাহিনীর টহল এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া অবস্থান রয়েছে। মেলায় ঢোকার প্রতিটি পয়েন্টে তল্লাশির মধ্য দিয়ে প্রবেশ করানো হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, তরুণদের জন্য প্রতি শুক্রবার ও শনিবার আয়োজিত উন্মুক্ত কনসার্টে গত শনিবার রাত ৮টার দিকে শিল্পী ও কয়েকজন তরুণ দর্শনার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে মারামারির ঘটনা ঘটে। এর পাশাপাশি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য নাশকতার শঙ্কায় বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মেলার নিরাপত্তা ও পার্কিং জোনে দায়িত্বরত পুলিশ পরিদর্শক রঞ্জু আহমেদ বলেন, এবার অন্য বছরের তুলনায় মেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রয়েছে। জেলা পুলিশের অধীনে থেকে তারা বাইরের পার্কিং জোনে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে মেলার ভেতরে আইসক্রিম স্টলগুলোতে দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। শাওন আইসক্রিম স্টলের উদ্যোক্তা শাওন জানান, সরকারি ছুটির দিনে বিক্রি সবচেয়ে বেশি হয়। অন্য দিনগুলোতেও আইসক্রিমের চাহিদা ভালো থাকছে।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও গুতিয়াবোর বাসিন্দা স্বর্ণালী আমান বলেন, খাবার ও আইসক্রিমের দোকানে সব সময়ই ভিড় থাকে, তবে অন্যান্য পণ্যের দাম বেশি হওয়ায় কেনাকাটা তেমন হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এবার মেলার পরিবেশ আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিচ্ছন্ন, যা প্রশংসনীয়।
মেলায় ব্লেজার ও শীতের পোশাকের স্টলে তুলনামূলক ভিড় কম দেখা গেলেও ফোয়ারা ও দৃষ্টিনন্দন ভবনের সামনে ছবি তুলতে ব্যস্ত দর্শনার্থীরা। বিভিন্ন স্টলে নারী বিক্রয়কর্মীদের হাকডাক শোনা গেলেও পুরুষদের পোশাকের সংগ্রহ তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছেন কেউ কেউ।
পার্কিং জোনে জেলা পুলিশের সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেলেও সেখানে অবৈধভাবে শতাধিক দোকান বসানোর অভিযোগ উঠেছে। রান্না করা খাবার ও চা-পানের এসব দোকান বসানোর ক্ষেত্রে কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হলেও অভিযুক্তরা তা অস্বীকার করেছেন।
মেলার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ইপিবির সচিব ও মেলার পরিচালক তরফদার রহমান সোহেল বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এতে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত হবে। তিনি জানান, মেলা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এবং সময় কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে মেলায় আসা অনেক দর্শনার্থী অভিযোগ করেছেন, ছাড়ের ঘোষণা থাকলেও পণ্যের দাম স্থানীয় বাজারের তুলনায় বেশি রাখা হচ্ছে, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য হতাশাজনক।



















