ইরানে গ্রেফতার তরুণ বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির ফাঁসি স্থগিত
- আপডেট সময় : ১২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার তরুণ বিক্ষোভকারী এরফান সোলতানির ফাঁসি বুধবার কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়েছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হেনগাও’ জানিয়েছে, দেশটির কর্তৃপক্ষ ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানির মৃত্যুদণ্ড আপাতত কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই রায় পুরোপুরি বাতিল হয়নি বলেও জানা গেছে।
এরফান সোলতানির আত্মীয় সোমায়েহ জানিয়েছেন, তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে নির্ধারিত দিনে দণ্ড কার্যকর করা হয়নি। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি এবং পরিবার কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পরবর্তী সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে। এই অনিশ্চয়তার মধ্যে পরিবারটি চরম উদ্বেগ ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে সময় কাটাচ্ছে বলে জানান তিনি।
পেশায় দোকানব্যবসায়ী এরফান সোলতানি ইরানের রাজধানী তেহরানের উপকণ্ঠে অবস্থিত কারাজ এলাকায় বসবাস করতেন। মানবাধিকার সংস্থা হেনগাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস-এর তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) তাকে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্রুত বিচার শেষে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির সাজা ঘোষণা করা হয়, যা আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
তেহরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের শহর কারাজে গ্রেফতারের সময় সেখানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চরমে পৌঁছেছিল। ওই সময় কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেয়, ফলে শহরটির পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গত সপ্তাহে দেশজুড়ে হাজারো বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করা হয়, এরফান সোলতানি তাদেরই একজন বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
এরফানের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, ইরানি কর্তৃপক্ষ ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে দ্রুত বিচার ও নির্বিচারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথ অবলম্বন করতে পারে—এ আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে ১১ জানুয়ারি ইরানি কর্মকর্তারা এরফানের পরিবারকে তার ফাঁসির সাজার বিষয়টি অবহিত করেন। চলমান বিক্ষোভ ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে বৃহস্পতিবার থেকে তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে এরফান সোলতানির জীবন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে।























