ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

প্রায় এক দশক পর আইসিজিতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচার শুরু

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১০:৪৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি)। জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থাটি ‘বৈশ্বিক আদালত’ বা ‘ওয়ার্ল্ড কোর্ট’ নামেও পরিচিত।

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আইসিজিতে সোমবার দেশটির স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) এই মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে। টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলবে এই শুনানিপর্ব। রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যে মামলাটি আইসিজিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে, তার তদন্তকারী সংস্থা ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার জন্য সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠন আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে দায়ী করে মিয়ানমার সরকার। ওই ঘটনার পরপরই একই বছরের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে ‘অভিযান’-এর নামে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

এই অভিযানের সময় সাধারণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয় বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করে। সহিংসতার মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে পালিয়ে আসে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সে সময় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যাদের বড় অংশ এখনো কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের পর জাতিসংঘ একটি অনুসন্ধানী দল গঠন করে। তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করে।

মামলার সময় মিয়ানমারের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সুচি। তিনি জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং গাম্বিয়ার আনা অভিযোগকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দেন। তবে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন সুচি। বর্তমানে তিনি দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগে মিয়ানমারের সেনা-সমর্থিত আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়ে কারাবন্দী রয়েছেন।

এ বিষয়ে মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, “গণহত্যার প্রকৃত সংজ্ঞা কী, কীভাবে গণহত্যা সংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণ করা যায় এবং এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের ন্যায়বিচার কীভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব—এই মামলার রায়ের মাধ্যমে এসব বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নজির স্থাপিত হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

প্রায় এক দশক পর আইসিজিতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচার শুরু

আপডেট সময় : ১০:৪৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

প্রায় এক দশক পর মিয়ানমারের ধর্মীয় সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হচ্ছে জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজি)। জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ বিচারিক সংস্থাটি ‘বৈশ্বিক আদালত’ বা ‘ওয়ার্ল্ড কোর্ট’ নামেও পরিচিত।

নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত আইসিজিতে সোমবার দেশটির স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) এই মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে। টানা প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলবে এই শুনানিপর্ব। রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যে মামলাটি আইসিজিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে, তার তদন্তকারী সংস্থা ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৭ সালের জুলাই মাসে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এসব হামলার জন্য সশস্ত্র রোহিঙ্গা সংগঠন আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে দায়ী করে মিয়ানমার সরকার। ওই ঘটনার পরপরই একই বছরের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে ‘অভিযান’-এর নামে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।

এই অভিযানের সময় সাধারণ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয় বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করে। সহিংসতার মুখে লাখ লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশগুলোতে পালিয়ে আসে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, সে সময় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়, যাদের বড় অংশ এখনো কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসবাস করছে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের পর জাতিসংঘ একটি অনুসন্ধানী দল গঠন করে। তাদের তদন্ত প্রতিবেদনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর অভিযানে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ২০১৯ সালে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া আইসিজিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করে।

মামলার সময় মিয়ানমারের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী অং সান সুচি। তিনি জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন এবং গাম্বিয়ার আনা অভিযোগকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে আখ্যা দেন। তবে ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন সুচি। বর্তমানে তিনি দুর্নীতিসহ একাধিক অভিযোগে মিয়ানমারের সেনা-সমর্থিত আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়ে কারাবন্দী রয়েছেন।

এ বিষয়ে মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা নিকোলাস কৌমজিয়ান রয়টার্সকে বলেন, “গণহত্যার প্রকৃত সংজ্ঞা কী, কীভাবে গণহত্যা সংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণ করা যায় এবং এ ধরনের ভয়াবহ অপরাধের ন্যায়বিচার কীভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব—এই মামলার রায়ের মাধ্যমে এসব বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নজির স্থাপিত হবে।”