ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার পরও কমলো তেলের দাম
- আপডেট সময় : ০৫:০৭:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার ঘটনার পরও বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে। ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল মজুত কাজে লাগানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর এর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করতে শুরু করেছেন বিনিয়োগকারীরা, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা গেছে তেলের দামে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) দিনের শুরুর লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের প্রধান সূচক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কমে দাঁড়ায় প্রতি ব্যারেল ৬০ দশমিক ৩৩ মার্কিন ডলারে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম নেমে আসে ৫৬ দশমিক ০১ ডলারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের ঘোষণার ফলে বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ আসতে পারে—এমন আশঙ্কাই তেলের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলায় গিয়ে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ও ভেঙে পড়া তেল অবকাঠামো মেরামত করবে এবং উৎপাদন বাড়িয়ে লাভবান হবে।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বড় তেল কোম্পানি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগের ঘোষণা দেয়নি। যদিও শেভরনের সাবেক শীর্ষ নির্বাহী আলি মোশিরি জানিয়েছেন, তিনি ভেনেজুয়েলার তেল প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছেন। ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তার প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে সম্ভাব্য সম্পদ চিহ্নিত করেছে এবং বিনিয়োগের প্রস্তুতিও শুরু করেছে।
ভেনেজুয়েলা বর্তমানে বৈশ্বিক তেল উৎপাদনের মাত্র এক শতাংশ সরবরাহ করে। দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ঘাটতি, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধের কারণে দেশটির তেল উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার হাতে রয়েছে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ১৭ শতাংশ মজুত, যা বিশ্বে সর্ববৃহৎ তেল মজুত হিসেবে বিবেচিত।
বাজার বিশ্লেষক ক্যাথলিন ব্রুকস মনে করছেন, তেলের দামের এই পতন স্বল্পমেয়াদি হতে পারে। তার মতে, ভেনেজুয়েলার অতিরিক্ত তেল বিশ্ববাজারে আসতে সময় লাগবে। কারণ পুরোনো ও জরাজীর্ণ অবকাঠামো আধুনিকীকরণ, নতুন কূপ খনন এবং ভারী অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের জন্য নতুন শোধনাগার নির্মাণ—এসব কাজ সম্পন্ন করতে বিপুল বিনিয়োগ ও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন। তার ধারণা, ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এদিকে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেও তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস তাদের উৎপাদন নীতিতে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি। রাশিয়া, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ জোটভুক্ত দেশগুলো এপ্রিলের আগে উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার অবস্থানেই রয়েছে।























