রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ না হলে ভারতকে শুল্ক বাড়ানোর হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
- আপডেট সময় : ১১:৪৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৬২ বার পড়া হয়েছে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নয়াদিল্লি যদি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি অব্যাহত রাখে, তাহলে ওয়াশিংটন ভারতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দেবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিষয়টি জানতেন এবং তাঁকে ‘খুশি করতে’ নয়াদিল্লি তেল আমদানির পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গতকাল রোববার এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘রাশিয়ার তেলের বিষয়ে ভারত যদি সাহায্য না করে, তবে আমরা তাদের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে দিতে পারি।’ তিনি আরও দাবি করেন, ভারত ইতোমধ্যেই রাশিয়া থেকে তেল কেনার পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘মূলত তারা আমাকে খুশি করতে চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী মোদি অত্যন্ত ভালো মানুষ, তিনি চমৎকার একজন ব্যক্তি। তিনি জানতেন যে আমি খুশি ছিলাম না। আমাকে খুশি করাটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তারা আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করে, আর আমরা খুব দ্রুতই তাদের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারি।’
নয়াদিল্লির রুশ জ্বালানি বাণিজ্য নিয়ে যখন ওয়াশিংটনে গভীর পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা চলছে, ঠিক সেই সময় ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও ভারত শুরু থেকেই বলে আসছে, নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থেই রাশিয়া থেকে তেল কেনা তাদের জন্য জরুরি।
কয়েক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মোদির মধ্যে এক ফোনালাপ হয়। সে সময় শুল্ক ইস্যুতে টানাপোড়েন থাকলেও দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বাণিজ্য অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যেই ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই এই ফোনালাপ হয়।
চলতি বছরের শুরুতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ভারতীয় পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের কারণে সেই আলোচনা কার্যত থমকে যায়।
এর মধ্যেই ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পের একটি প্রশংসাসূচক মন্তব্য তুলে ধরে। সেখানে ট্রাম্প ভারতকে একটি ‘অসাধারণ দেশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এক ‘দুর্দান্ত বন্ধু’ পেয়েছে। তিনি লেখেন, ‘ভারত বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতাগুলোর অন্যতম। এটি একটি চমৎকার দেশ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে আমেরিকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।’
এদিকে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার ঘটনাও আবার ভূ-রাজনীতিতে তেলের গুরুত্বকে সামনে এনেছে। দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে—৩০০ বিলিয়ন ব্যারেলেরও বেশি। তবে দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও বিনিয়োগের ঘাটতির কারণে ভেনেজুয়েলায় তেল উৎপাদন কমে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার এই বিশাল তেল ভান্ডার বৈশ্বিক মোট তেল সরবরাহের প্রায় ১৭ শতাংশের সমান।























