ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

কানাডায় বৈধ মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয়

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কানাডায় বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় নাগরিক আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশটিতে তাদের বৈধ বসবাসের অনুমতি বা আইনি মর্যাদা হারানোর চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। কাজের অনুমতির (ওয়ার্ক পারমিট) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, নতুন ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা এবং স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্স বা পিআর) সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসায় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা।

মিসিসাগাভিত্তিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ কানওয়ার সিরাহ কানাডার অভিবাসন দপ্তর (আইআরসিসি) থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জানান, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ ৫৩ হাজার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের মধ্যে আরও প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ কানাডায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ অনিয়মিত বা নথিপত্রহীন অবস্থায় পড়ে যেতে পারেন, যার অন্তত অর্ধেকই ভারতীয় নাগরিক।

কানাডা সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসন নীতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। অস্থায়ী কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মকানুন কঠিন করার পাশাপাশি রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম আবেদনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে যাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাদের সামনে বৈধভাবে থাকার বিকল্প পথগুলো ক্রমেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কানওয়ার সিরাহ সতর্ক করে বলেন, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষের পারমিটের মেয়াদ শেষ হবে, যা কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ ও স্থবিরতা তৈরি করতে পারে।

ইতোমধ্যেই এই সংকটের সামাজিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বৃহত্তর টরন্টো এলাকা, বিশেষ করে ব্র্যাম্পটন ও ক্যালেডনের বনাঞ্চলে অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বসবাস করতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আইনি মর্যাদা হারানো বহু ভারতীয় নাগরিক এখন নামমাত্র মজুরিতে নগদ টাকায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি বৈধ হওয়ার আশায় ভুয়া বিয়েসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এই মানবিক ও আইনি সংকটের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিভিন্ন অধিকার রক্ষা সংগঠন। ‘নওজোয়ান সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’-এর মতো কর্মীবান্ধব সংগঠনগুলো জানুয়ারি মাস থেকে বড় পরিসরে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের দাবি, যারা বছরের পর বছর কানাডার অর্থনীতিতে শ্রম দিয়ে অবদান রাখছেন, তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে। ‘কাজের জন্য যোগ্য হলে, থাকার জন্যও যোগ্য’—এই স্লোগান সামনে রেখে তারা কানাডা সরকারের অভিবাসন নীতি সংস্কারের জন্য চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কানাডায় বৈধ মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে প্রায় ১০ লাখ ভারতীয়

আপডেট সময় : ১১:১৫:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

কানাডায় বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ ভারতীয় নাগরিক আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশটিতে তাদের বৈধ বসবাসের অনুমতি বা আইনি মর্যাদা হারানোর চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। কাজের অনুমতির (ওয়ার্ক পারমিট) মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, নতুন ভিসা প্রাপ্তির জটিলতা এবং স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্স বা পিআর) সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসায় এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশ্লেষকরা।

মিসিসাগাভিত্তিক অভিবাসন বিশেষজ্ঞ কানওয়ার সিরাহ কানাডার অভিবাসন দপ্তর (আইআরসিসি) থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে জানান, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ ৫৩ হাজার ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের মধ্যে আরও প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে রয়েছে। এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ২০২৬ সালের মাঝামাঝি নাগাদ কানাডায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ অনিয়মিত বা নথিপত্রহীন অবস্থায় পড়ে যেতে পারেন, যার অন্তত অর্ধেকই ভারতীয় নাগরিক।

কানাডা সরকারের সাম্প্রতিক কঠোর অভিবাসন নীতি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। অস্থায়ী কর্মী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মকানুন কঠিন করার পাশাপাশি রাজনৈতিক আশ্রয় বা অ্যাসাইলাম আবেদনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এর ফলে যাদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হচ্ছে, তাদের সামনে বৈধভাবে থাকার বিকল্প পথগুলো ক্রমেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কানওয়ার সিরাহ সতর্ক করে বলেন, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকেই প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার মানুষের পারমিটের মেয়াদ শেষ হবে, যা কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ ও স্থবিরতা তৈরি করতে পারে।

ইতোমধ্যেই এই সংকটের সামাজিক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। বৃহত্তর টরন্টো এলাকা, বিশেষ করে ব্র্যাম্পটন ও ক্যালেডনের বনাঞ্চলে অস্থায়ী তাঁবু খাটিয়ে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বসবাস করতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আইনি মর্যাদা হারানো বহু ভারতীয় নাগরিক এখন নামমাত্র মজুরিতে নগদ টাকায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। পাশাপাশি বৈধ হওয়ার আশায় ভুয়া বিয়েসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এই মানবিক ও আইনি সংকটের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিভিন্ন অধিকার রক্ষা সংগঠন। ‘নওজোয়ান সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’-এর মতো কর্মীবান্ধব সংগঠনগুলো জানুয়ারি মাস থেকে বড় পরিসরে বিক্ষোভের কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাদের দাবি, যারা বছরের পর বছর কানাডার অর্থনীতিতে শ্রম দিয়ে অবদান রাখছেন, তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে। ‘কাজের জন্য যোগ্য হলে, থাকার জন্যও যোগ্য’—এই স্লোগান সামনে রেখে তারা কানাডা সরকারের অভিবাসন নীতি সংস্কারের জন্য চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।