ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

ঢাকায় এলপিজি সংকট: দাম বাড়ছে, সরবরাহ নেই

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬ ৬৭ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গত মাসের শেষ দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে ক্রেতারা বাজারে দাম বৃদ্ধির শিকার হয়েছেন। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা কাওসার খান বলেন, ২৪ ডিসেম্বর সকালে তিনি প্রথম দোকানে ফোন করেছিলেন, কিন্তু সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। এরপর আরেকটি দোকানেও খোঁজ করেও সিলিন্ডার পাননি। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় একটি দোকান থেকে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে দেড় হাজার টাকায়, যা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি।

কল্যাণপুরের নতুন বাজার এলাকার ফারজানা নীলা ৩০ ডিসেম্বর সিলিন্ডার না পেয়ে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হন ১ হাজার ৮০০ টাকায়, যা সরকারি মূল্যের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি। মিরপুরের কাজীপাড়ার আসমা আখতারও ৩১ ডিসেম্বর একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন; ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে তাকে দিতে হয় ২ হাজার ১০০ টাকা। ডিসেম্বরে সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল মাত্র ১ হাজার ২৫৩ টাকা।

ঢাকার চারটি খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ নেই। ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দাম দিয়ে সিলিন্ডার কিনছেন। এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক সমিতির সভাপতি সেলিম খান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, অধিকাংশ কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি সিলিন্ডার সরবরাহ করছে; ১ হাজার সিলিন্ডারের চাহিদা দিলেও ২০০–৩০০ সিলিন্ডারই সরবরাহ হচ্ছে। পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিগুলি প্রতি সিলিন্ডারে ৭০–৮০ টাকা বাড়তি চার্জ নিচ্ছে।

দাম বৃদ্ধির পেছনে শীতকালীন বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বৃদ্ধি ও আমদানির জাহাজসংকট মূল কারণ। নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানি কমে গেছে। সাধারণত প্রতি মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়; ডিসেম্বরে এটি কমে ৯০ হাজার টন হয়েছে। এ কারণে কিছু কোম্পানি খরচ বৃদ্ধির ভিত্তিতে সামান্য দাম বাড়াতে পারে, তবে বাজারে একাই ৫০০–৮০০ টাকা বাড়তি নেওয়া আইনত এবং নীতিগতভাবে ঠিক নয় বলে সমিতি জানিয়েছে।

বিক্রেতাদের মতে, ক্রেতাদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ সীমিত হওয়ায় বাজারে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। ৪ জানুয়ারি বিইআরসি নতুন দাম ঘোষণা করবে। তারপর বাজারে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হবে, সেটাই এখন নজর কাড়ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঢাকায় এলপিজি সংকট: দাম বাড়ছে, সরবরাহ নেই

আপডেট সময় : ০১:৫২:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

গত মাসের শেষ দিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে, যার ফলে ক্রেতারা বাজারে দাম বৃদ্ধির শিকার হয়েছেন। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা কাওসার খান বলেন, ২৪ ডিসেম্বর সকালে তিনি প্রথম দোকানে ফোন করেছিলেন, কিন্তু সিলিন্ডার পাওয়া যায়নি। এরপর আরেকটি দোকানেও খোঁজ করেও সিলিন্ডার পাননি। শেষ পর্যন্ত তৃতীয় একটি দোকান থেকে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে দেড় হাজার টাকায়, যা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি।

কল্যাণপুরের নতুন বাজার এলাকার ফারজানা নীলা ৩০ ডিসেম্বর সিলিন্ডার না পেয়ে ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হন ১ হাজার ৮০০ টাকায়, যা সরকারি মূল্যের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি। মিরপুরের কাজীপাড়ার আসমা আখতারও ৩১ ডিসেম্বর একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হন; ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে তাকে দিতে হয় ২ হাজার ১০০ টাকা। ডিসেম্বরে সরকার নির্ধারিত ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল মাত্র ১ হাজার ২৫৩ টাকা।

ঢাকার চারটি খুচরা বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ নেই। ফলে ক্রেতারা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দাম দিয়ে সিলিন্ডার কিনছেন। এলপিজি সিলিন্ডার পরিবেশক সমিতির সভাপতি সেলিম খান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, অধিকাংশ কোম্পানি সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। হাতে গোনা কয়েকটি কোম্পানি সিলিন্ডার সরবরাহ করছে; ১ হাজার সিলিন্ডারের চাহিদা দিলেও ২০০–৩০০ সিলিন্ডারই সরবরাহ হচ্ছে। পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিগুলি প্রতি সিলিন্ডারে ৭০–৮০ টাকা বাড়তি চার্জ নিচ্ছে।

দাম বৃদ্ধির পেছনে শীতকালীন বিশ্ববাজারে এলপিজির চাহিদা বৃদ্ধি ও আমদানির জাহাজসংকট মূল কারণ। নিয়মিত এলপিজি পরিবহনের ২৯টি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে আমদানি কমে গেছে। সাধারণত প্রতি মাসে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়; ডিসেম্বরে এটি কমে ৯০ হাজার টন হয়েছে। এ কারণে কিছু কোম্পানি খরচ বৃদ্ধির ভিত্তিতে সামান্য দাম বাড়াতে পারে, তবে বাজারে একাই ৫০০–৮০০ টাকা বাড়তি নেওয়া আইনত এবং নীতিগতভাবে ঠিক নয় বলে সমিতি জানিয়েছে।

বিক্রেতাদের মতে, ক্রেতাদের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ সীমিত হওয়ায় বাজারে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। ৪ জানুয়ারি বিইআরসি নতুন দাম ঘোষণা করবে। তারপর বাজারে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হবে, সেটাই এখন নজর কাড়ছে।