পাকিস্তানে সহিংসতা বাড়ছেই,জঙ্গি নিহতের দাবিও থামাতে পারেনি সন্ত্রাস
- আপডেট সময় : ১২:৪২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৬ বার পড়া হয়েছে
পাকিস্তানে ২০২৫ সালে রেকর্ডসংখ্যক ‘জঙ্গি’ নিহতের দাবি করা হলেও দেশটিতে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী হামলার প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। নিরাপত্তা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের পরও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা কমেনি; বরং নতুন কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে তারা আরও সংগঠিতভাবে হামলা চালাচ্ছে বলে উঠে এসেছে একাধিক গবেষণা প্রতিবেদনে।
ইসলামাবাদভিত্তিক গবেষণা সংস্থা পাক ইনস্টিটিউট ফর পিস স্টাডিজ (পিআইপিএস) প্রকাশিত ‘পাকিস্তান নিরাপত্তা প্রতিবেদন ২০২৫’ অনুযায়ী, গত এক বছরে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৩৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে এসব হামলায় প্রাণহানির ঘটনা বেড়েছে ২১ শতাংশ। বছরজুড়ে পাকিস্তানে অন্তত ৬৯৯টি সন্ত্রাসী হামলা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে। পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এই প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশ করেছে।
পিআইপিএস-এর বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় কমপক্ষে ১ হাজার ৩৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৬৬ জন আহত হয়েছেন। সহিংসতার এই ভয়াবহ চিত্রের কেন্দ্রবিন্দু ছিল খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশ। মোট সহিংস ঘটনার ৯৫ শতাংশেরও বেশি এই দুই প্রদেশে সংঘটিত হয়েছে, যা দেশটির পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাকে নির্দেশ করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্ত উত্তেজনা, জঙ্গিদের কৌশলগত পরিবর্তন এবং সংগঠিত পুনরুত্থান পাকিস্তানের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর ওপর, যাদের লক্ষ্য করে হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, সন্ত্রাসবাদ-সম্পর্কিত মোট মৃত্যুর ৪২ শতাংশেরও বেশি নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য। দায়িত্ব পালনকালে ৪৩৭ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন, যা এই সহিংস সংঘাতের গভীরতা ও ঝুঁকির মাত্রা স্পষ্ট করে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও চরম মূল্য দিচ্ছে—বছরজুড়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩৫৪ জন বেসামরিক নাগরিক।
অন্যদিকে, নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযান ও আত্মঘাতী হামলার ঘটনায় ২০২৫ সালে ২৪৩ জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এত সংখ্যক জঙ্গি নিহতের পরও সামগ্রিক সহিংসতা কমেনি, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কৌশলের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
প্রতিবেদনের উপসংহারে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের জন্য সামনের দিনগুলো আরও কঠিন হতে পারে। সম্প্রতি একটি মার্কিন থিঙ্কট্যাংকের প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যা পুরো দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগজনক।
পিআইপিএস-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে বেলুচিস্তান পর্যন্ত বিস্তৃত জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলো তাদের কৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাকিস্তানকে আরও সমন্বিত, গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনার দিকে এগোতে হবে—এমনটাই মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।























