ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় জানুয়ারিতেই স্বাক্ষরের আশা জেলেনস্কির

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৫:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় আগামী জানুয়ারির মধ্যেই কিয়েভ ও মস্কো স্বাক্ষর করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। বুধবার দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক সফল হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি আশা করছি, আগামী জানুয়ারির মধ্যেই ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপ প্রস্তাবিত নথি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাবে এবং সেটি স্বাক্ষরিত হবে।” এই চুক্তিকে তিনি যুদ্ধাবসানের পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছেন জেলেনস্কি। ট্রাম্প প্রশাসন এই শর্তে সম্মত হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার ৫ নম্বর পয়েন্টে আগামী ১৫ বছর ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

তবে জেলেনস্কি চাইছেন, এই মেয়াদ ১৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫০ বছর করা হোক। এ বিষয়ে কিয়েভ ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আমি আশা করছি, ইউক্রেন ও তার নাগরিকদের নিরাপত্তাগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই এই নিশ্চয়তা চেয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই ব্যবস্থার আওতায় শুধুমাত্র মার্কিন সেনাবাহিনীই ইউক্রেনে অবস্থান করবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে বিশ্বের অন্যতম অগ্রসর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবারের ভাষণে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন নিয়েও কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তার মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন ও ইউরোপীয় বিভিন্ন কোম্পানি ইউক্রেনের পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনে নাগরিকদের গড় আয় ও মজুরি বৃদ্ধি করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমি তার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় জানুয়ারিতেই স্বাক্ষরের আশা জেলেনস্কির

আপডেট সময় : ০৫:২৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনায় আগামী জানুয়ারির মধ্যেই কিয়েভ ও মস্কো স্বাক্ষর করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি। বুধবার দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি বলেন, সাম্প্রতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে।

জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার ফ্লোরিডায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক সফল হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি আশা করছি, আগামী জানুয়ারির মধ্যেই ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপ প্রস্তাবিত নথি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাবে এবং সেটি স্বাক্ষরিত হবে।” এই চুক্তিকে তিনি যুদ্ধাবসানের পথে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চেয়েছেন জেলেনস্কি। ট্রাম্প প্রশাসন এই শর্তে সম্মত হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার ৫ নম্বর পয়েন্টে আগামী ১৫ বছর ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

তবে জেলেনস্কি চাইছেন, এই মেয়াদ ১৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫০ বছর করা হোক। এ বিষয়ে কিয়েভ ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে। মঙ্গলবার দেওয়া ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, “নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। আমি আশা করছি, ইউক্রেন ও তার নাগরিকদের নিরাপত্তাগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রসঙ্গে জেলেনস্কি আরও বলেন, ইউক্রেন কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই এই নিশ্চয়তা চেয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই ব্যবস্থার আওতায় শুধুমাত্র মার্কিন সেনাবাহিনীই ইউক্রেনে অবস্থান করবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে ট্রাম্প প্রশাসন ইউক্রেনকে বিশ্বের অন্যতম অগ্রসর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্যাট্রিয়ট এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবারের ভাষণে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন নিয়েও কথা বলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। তার মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের পুনর্গঠনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন। যুদ্ধবিরতির পর মার্কিন ও ইউরোপীয় বিভিন্ন কোম্পানি ইউক্রেনের পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো যুদ্ধ-পরবর্তী ইউক্রেনে নাগরিকদের গড় আয় ও মজুরি বৃদ্ধি করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, এ বিষয়ে তিনি আমাদের সহযোগিতা করবেন। আমি তার প্রতি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”