ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

পবিত্র কোরআনে হাত রেখে শপথ নেবেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৫:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬২ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন জোহরান মামদানি। বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর, আর নববর্ষের প্রথম প্রহরে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট নেতা।

জানা গেছে, প্রচলিত রীতি ভেঙে নিউইয়র্ক সিটি হলে নয়, বরং ‘গিল্ডেড এইজ’ যুগে নির্মিত একটি পরিত্যক্ত ভূগর্ভস্থ সাবওয়ে স্টেশনে সীমিত পরিসরের এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে শপথ নেবেন মামদানি। নববর্ষের মধ্যরাতে অনুষ্ঠিতব্য এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে ঐতিহাসিক ‘ওল্ড সিটি হল স্টেশন’-এ।

এএফপি জানায়, নতুন বছরের প্রাক্কালে মধ্যরাতে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস একটি বেসরকারি আয়োজনে জোহরান মামদানিকে শপথ পাঠ করাবেন। লেটিশিয়া জেমস মামদানির ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবেও সুপরিচিত। এ সময় মামদানি পবিত্র কুরআনে হাত রেখে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

মামদানির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভূগর্ভস্থ এই সাবওয়ে স্টেশন বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নিউইয়র্ক শহরকে প্রতিদিন সচল রাখেন এমন শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটাতে চান। এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, এই স্থাপনাটি এমন এক সময়ের স্মারক, যখন নিউইয়র্ক শহর বড় স্বপ্ন দেখার সাহস করত এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার মতো অবকাঠামো গড়ে তুলত।

তিনি আরও বলেন, সিটি হলের ওপরের ভবনগুলো থেকে যারা নিউইয়র্কবাসীদের সেবা করার সুযোগ পাবেন, তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই হারিয়ে যাওয়া চেতনাকে ফিরিয়ে আনা। নতুন সুযোগের এই যুগে লাখ লাখ নিউইয়র্কবাসীকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান ও সম্মানিত মনে করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা এখানেই শেষ হচ্ছে না। বুধবার দুপুরে সিটি হলের বাইরে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত একটি বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন ভারমন্টের বামপন্থী প্রবীণ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। ওই অনুষ্ঠানে সিটি হলের সিঁড়িতে আরেক দফা আনুষ্ঠানিক শপথ পাঠ করানো হবে মামদানিকে। পরে ব্রডওয়েতে একটি ব্লক পার্টিরও আয়োজন করা হবে।

উল্লেখ্য, ‘ওল্ড সিটি হল স্টেশন’টি ১৯০৪ সালে নিউইয়র্কে চালু হওয়া প্রথম ২৮টি সাবওয়ে স্টেশনের একটি ছিল। তবে ১৯৪৫ সালে আধুনিকায়নের সময় এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে এটিকে নিউইয়র্ক সিটির ‘ল্যান্ডমার্ক’ ঘোষণা করা হয় এবং ২০০৪ সালে এটি জাতীয় ঐতিহাসিক স্থানের স্বীকৃতি পায়।

উগান্ডায় জন্ম নেওয়া জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক স্টেটের সাবেক আইনপ্রণেতা। গত ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচনে তিনি ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে পরাজিত করেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল টিকিটমুক্ত বাস ব্যবস্থা, সার্বজনীন শিশুশিক্ষা এবং বাড়িভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ।

নিউইয়র্ক সিটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনার পথে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পবিত্র কোরআনে হাত রেখে শপথ নেবেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র জোহরান মামদানি

আপডেট সময় : ০৫:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন জোহরান মামদানি। বর্তমান মেয়র এরিক অ্যাডামসের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর, আর নববর্ষের প্রথম প্রহরে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট নেতা।

জানা গেছে, প্রচলিত রীতি ভেঙে নিউইয়র্ক সিটি হলে নয়, বরং ‘গিল্ডেড এইজ’ যুগে নির্মিত একটি পরিত্যক্ত ভূগর্ভস্থ সাবওয়ে স্টেশনে সীমিত পরিসরের এক ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে শপথ নেবেন মামদানি। নববর্ষের মধ্যরাতে অনুষ্ঠিতব্য এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হবে ঐতিহাসিক ‘ওল্ড সিটি হল স্টেশন’-এ।

এএফপি জানায়, নতুন বছরের প্রাক্কালে মধ্যরাতে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস একটি বেসরকারি আয়োজনে জোহরান মামদানিকে শপথ পাঠ করাবেন। লেটিশিয়া জেমস মামদানির ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক হিসেবেও সুপরিচিত। এ সময় মামদানি পবিত্র কুরআনে হাত রেখে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

মামদানির কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভূগর্ভস্থ এই সাবওয়ে স্টেশন বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নিউইয়র্ক শহরকে প্রতিদিন সচল রাখেন এমন শ্রমজীবী মানুষের প্রতি তার অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটাতে চান। এক বিবৃতিতে মামদানি বলেন, এই স্থাপনাটি এমন এক সময়ের স্মারক, যখন নিউইয়র্ক শহর বড় স্বপ্ন দেখার সাহস করত এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার মতো অবকাঠামো গড়ে তুলত।

তিনি আরও বলেন, সিটি হলের ওপরের ভবনগুলো থেকে যারা নিউইয়র্কবাসীদের সেবা করার সুযোগ পাবেন, তাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই হারিয়ে যাওয়া চেতনাকে ফিরিয়ে আনা। নতুন সুযোগের এই যুগে লাখ লাখ নিউইয়র্কবাসীকে নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ভাগ্যবান ও সম্মানিত মনে করছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শপথগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা এখানেই শেষ হচ্ছে না। বুধবার দুপুরে সিটি হলের বাইরে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত একটি বড় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন ভারমন্টের বামপন্থী প্রবীণ সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। ওই অনুষ্ঠানে সিটি হলের সিঁড়িতে আরেক দফা আনুষ্ঠানিক শপথ পাঠ করানো হবে মামদানিকে। পরে ব্রডওয়েতে একটি ব্লক পার্টিরও আয়োজন করা হবে।

উল্লেখ্য, ‘ওল্ড সিটি হল স্টেশন’টি ১৯০৪ সালে নিউইয়র্কে চালু হওয়া প্রথম ২৮টি সাবওয়ে স্টেশনের একটি ছিল। তবে ১৯৪৫ সালে আধুনিকায়নের সময় এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে এটিকে নিউইয়র্ক সিটির ‘ল্যান্ডমার্ক’ ঘোষণা করা হয় এবং ২০০৪ সালে এটি জাতীয় ঐতিহাসিক স্থানের স্বীকৃতি পায়।

উগান্ডায় জন্ম নেওয়া জোহরান মামদানি নিউইয়র্ক স্টেটের সাবেক আইনপ্রণেতা। গত ৪ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচনে তিনি ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুমোকে পরাজিত করেন। তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিশ্রুতির মধ্যে ছিল টিকিটমুক্ত বাস ব্যবস্থা, সার্বজনীন শিশুশিক্ষা এবং বাড়িভাড়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ।

নিউইয়র্ক সিটির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচনার পথে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।