কানাডার নৌবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করল ইরান
- আপডেট সময় : ০৫:৫৪:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৪ বার পড়া হয়েছে
ইরান কানাডার নৌবাহিনী রয়্যাল কানাডিয়ান নেভিকে (আরসিএন) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। তেহরান স্পষ্ট করে জানায়, কানাডা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী—ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করার প্রতিক্রিয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে ইরান দাবি করে, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। ‘পারস্পরিকতার নীতি’র আওতায় কানাডার সিদ্ধান্তের জবাব হিসেবে রয়্যাল কানাডিয়ান নেভিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এই ঘোষণার ফলে কানাডার নৌবাহিনীর ওপর বাস্তবিক বা আইনি কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—সে বিষয়ে ইরান বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন ২০২৪ কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। এর ফলে আইআরজিসির সদস্যদের কানাডায় প্রবেশ নিষিদ্ধ হয় এবং কানাডার নাগরিকদের জন্য ওই বাহিনী বা এর সদস্যদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আর্থিক বা বাণিজ্যিক লেনদেন অবৈধ হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে কানাডায় আইআরজিসি বা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো সম্পদ থাকলে তা জব্দ করার বিধান কার্যকর করা হয়।
কানাডা সরকারের অভিযোগ, আইআরজিসি ইরানের ভেতরে ও বাইরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে জড়িত এবং আন্তর্জাতিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। অটোয়া জানায়, এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্যতম কারণ ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইউক্রেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পিএস৭৫২ ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা। তেহরান থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি ভূপাতিত হলে ১৭৬ জন যাত্রী ও ক্রু নিহত হন, যাদের মধ্যে ৮৫ জন ছিলেন কানাডার নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দা।
পরবর্তীতে আইআরজিসি স্বীকার করে যে, তাদের বাহিনীই ওই বিমানটি ভূপাতিত করেছে। তবে তারা দাবি করে, দায়িত্বরত অপারেটররা ভুলবশত বিমানটিকে শত্রু লক্ষ্যবস্তু হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন।
ইরান–কানাডা সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। ২০১২ সালে কানাডা ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে এবং সে সময় তেহরানকে ‘বিশ্ব শান্তির জন্য বড় হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দেয় অটোয়া।
এদিকে ইরানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালের এপ্রিলে আইআরজিসিকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়াও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়। ক্যানবেরার অভিযোগ, অস্ট্রেলিয়ার ভূখণ্ডে সংঘটিত কয়েকটি হামলার পেছনেও এই বাহিনীর ভূমিকা রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইরান ও কানাডার মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ককে নতুন করে জটিল করে তুলতে পারে।























