ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু: বাংলাদেশের রাজনীতির এক স্থায়ী অধ্যায়ের সমাপ্তি

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০১:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে চার দশকের বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এবং অবদানের কিছু মুখ্য দিক:

নির্বাচনে অপ্রতিরোধ্য জয়:
খালেদা জিয়া কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং সবটিতেই বিজয়ী হয়েছেন।

একাধিক আসনে জয়:
১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সর্বাধিক পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালে তিনটি আসনে দাঁড়িয়ে তিনটিতেই জয়ী হন।

ভিন্ন ছয় জেলা থেকে সংসদ সদস্য:
বগুড়া, ফেনী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ও খুলনা—মোট ছয়টি ভিন্ন জেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ার এই রেকর্ড বিরল।

ফার্স্ট লেডি থেকে প্রধানমন্ত্রী:
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে ফার্স্ট লেডি ও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদান রাখেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা:
১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা বাতিল করে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

নারী শিক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ:
মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করে নারী শিক্ষায় বিপ্লব সৃষ্টি করেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি:
২০০১ সালে ‘মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করেন।

পরিবেশ রক্ষা:
২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দেন।

আঞ্চলিক নেতৃত্ব:
১৯৯২ সালে সার্ক সম্মেলনে প্রথম নারী চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নারী নেতৃত্বের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সাংবিধানিক স্বীকৃতি:
১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনী প্রণয়নের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন, যা রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্থায়ী ও অবিস্মরণীয় চরিত্র হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু: বাংলাদেশের রাজনীতির এক স্থায়ী অধ্যায়ের সমাপ্তি

আপডেট সময় : ০১:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের রাজনীতিতে চার দশকের বেশি সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

রাজনীতিতে তাঁর প্রভাব এবং অবদানের কিছু মুখ্য দিক:

নির্বাচনে অপ্রতিরোধ্য জয়:
খালেদা জিয়া কখনো কোনো নির্বাচনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ২৩টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন এবং সবটিতেই বিজয়ী হয়েছেন।

একাধিক আসনে জয়:
১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে সর্বাধিক পাঁচটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন। ২০০৮ সালে তিনটি আসনে দাঁড়িয়ে তিনটিতেই জয়ী হন।

ভিন্ন ছয় জেলা থেকে সংসদ সদস্য:
বগুড়া, ফেনী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ও খুলনা—মোট ছয়টি ভিন্ন জেলা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হওয়ার এই রেকর্ড বিরল।

ফার্স্ট লেডি থেকে প্রধানমন্ত্রী:
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে ফার্স্ট লেডি ও পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদান রাখেন।

সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা:
১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থা বাতিল করে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন।

নারী শিক্ষায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ:
মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করে নারী শিক্ষায় বিপ্লব সৃষ্টি করেন।

মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি:
২০০১ সালে ‘মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠা করে তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করেন।

পরিবেশ রক্ষা:
২০০২ সালে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্ব দেন।

আঞ্চলিক নেতৃত্ব:
১৯৯২ সালে সার্ক সম্মেলনে প্রথম নারী চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নারী নেতৃত্বের ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার সাংবিধানিক স্বীকৃতি:
১৯৯৬ সালে ত্রয়োদশ সংশোধনী প্রণয়নের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেন, যা রাজনৈতিক সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্থায়ী ও অবিস্মরণীয় চরিত্র হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।