খালেদা জিয়ার মৃত্যু: এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে শোকাহত নেতাকর্মীদের ঢল
- আপডেট সময় : ১১:৪৪:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে শোকের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে। নেত্রীর মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।
মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৮টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে শোকাহত মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। প্রিয় নেত্রীর মৃত্যুতে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। আবেগাপ্লুত হয়ে অনেকে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে রাখে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এর আগে, ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশিষ্ট নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে বিএনপি পক্ষ থেকে সাত দিনের শোক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের শাসনামলে খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হন এবং কারাবরণ করেন। সে সময় পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা না পাওয়ায় ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। করোনাকালে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও তাকে গুলশানের ভাড়া বাসা ‘ফিরোজা’য় কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় রাখা হয়।
চিকিৎসার অভাবে ওই সময়ে তার হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস ও কিডনির জটিলতাসহ একাধিক গুরুতর রোগে ভুগতে শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের দাবিতে দেশজুড়ে শুরু হওয়া আন্দোলন সরকার পতনের রূপ নেয়। টানা ৩৫ দিনের রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের পর ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। পরদিন ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেন।
এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে ১১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৬ মে দেশে ফেরেন তিনি। সে সময় তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও বয়সজনিত দুর্বলতা ও একাধিক রোগের জটিলতা তাকে ক্রমেই নাজুক করে তোলে। প্রায়ই গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হতো।
সবশেষ গত ২৩ নভেম্বর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময় সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে না ফেরার দেশে চলে যান বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রভাবশালী অধ্যায়ের এই নেত্রী।



















