পুতুল থেকে প্রধানমন্ত্রী: বাল্যকালের খালেদা জিয়া
- আপডেট সময় : ১১:০৭:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৯ বার পড়া হয়েছে
হালকা-পাতলা, প্রাণচঞ্চল আর শিল্পমনস্ক—শৈশবে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একেবারেই অন্যরকম। মাছ খেতে চাইতেন না, মাংস ছিল প্রিয় খাবার। তরকারির মধ্যে আলু ও ঢেড়শের প্রতি আলাদা টান ছিল তার। গান, নাচ আর খেলাধুলায় সমান পারদর্শী এই মেয়েটিই একসময় হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ বছরে, ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট, যুদ্ধবিধ্বস্ত বিশ্বের পটভূমিতে উত্তরবঙ্গের শান্ত শহর দিনাজপুরে তার জন্ম। পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন ‘পুতুল’—অপার সুন্দর এক শিশু। যুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মাঝেও যেন শান্তির বার্তা নিয়ে এসেছিলেন বলে চিকিৎসকের পরামর্শে তার নাম রাখার কথা উঠেছিল ‘শান্তি’। বড় বোনদের দেওয়া আদরের নাম ‘পুতুল’ ও ‘টিপসি’তেই কেটেছে তার শৈশব।
শৈশব থেকেই ছিলেন উচ্ছল ও সৃজনশীল। পাঁচ বছর বয়সে সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা, নাচ ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ছিল তার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। নিয়মিত নাচ শিখতেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে পুরস্কারও জিতেছেন। ফুল ভালোবাসতেন, চকলেট ছিল দুর্বলতা, আর লম্বা চুল গোছাতে মায়ের সাহায্য লাগত।
পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ ছিল ছোটবেলা থেকেই। ঘর গুছিয়ে রাখা, ছোট ভাইদের দেখাশোনা—সবই করতেন নিজ হাতে। বায়না ধরতেন না, অপচয় পছন্দ করতেন না। পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা ছিল তার স্বভাবের অংশ। এই সহজ, সংযত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনচর্চাই ধীরে ধীরে গড়ে তোলে এক দৃঢ় মানসিকতা।
দিনাজপুরের সেই ‘পুতুল’ই সময়ের প্রবাহে পরিণত হন বেগম খালেদা জিয়ায়—যিনি শুধু একটি রাজনৈতিক নাম নন, বরং বাংলাদেশের ইতিহাসে এক শক্তিশালী অধ্যায়ের প্রতীক।



















