নির্বাচন শেষে বাংলাদেশের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ বাড়াবে পাকিস্তান: ইসহাক দার
- আপডেট সময় : ০৫:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সক্রিয় কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সফর প্রসঙ্গে দেওয়া এক বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দেওয়া বক্তব্যে ইসহাক দার বলেন, বাংলাদেশ সফরকালে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে তার বৈঠকগুলো ছিল ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ। তিনি জানান, এ সফরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ভিত্তি গঠনে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, অতীতের আওয়ামী লীগ সরকারের সময় এবং তার আগের শাসনামলেও পাকিস্তান ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রত্যাশিত পর্যায়ে ছিল না। তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তার মতে, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর নির্ভর করেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ইসহাক দার আরও বলেন, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই নির্বাচনের পর উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ইসলামাবাদ ঢাকা’র সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৩ ও ২৪ আগস্ট পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুহাম্মদ ইসহাক দার ঢাকা সফর করেন। প্রায় ১৩ বছর পর এটি ছিল পাকিস্তানের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশে প্রথম বড় কূটনৈতিক সফর। সংশ্লিষ্ট মহল এ সফরকে দুই দেশের আন্তঃদ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতা কাঠামো—বিশেষ করে সার্ক—সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া। পাশাপাশি, সফরকালে দুই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি নতুন সংলাপের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।























