পাগলা মসজিদের দানবাক্সে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত: মিলেছে ৩৫ বস্তা টাকা, চলছে গণনা
- আপডেট সময় : ১১:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৬ বার পড়া হয়েছে
কিশোরগঞ্জের আলোচিত পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার বিপুল অঙ্কের অর্থ পাওয়া গেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে মোট ৩৫ বস্তা টাকা উদ্ধার করা হয়, যা ইতোমধ্যে নতুন রেকর্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সকাল ৭টার দিকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদের তত্ত্বাবধানে দানবাক্স খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা ও পুলিশ সুপার (এসপি) ড. এস এম ফরহাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
জেলা শহরের ঐতিহাসিক এই মসজিদে সাধারণত তিন মাস পরপর দানবাক্স খোলা হলেও এবার তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এবারের দানের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে উদ্ধার করা টাকার গণনা চলছে এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করা হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ আগস্ট পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ৩২ বস্তা টাকা। সে সময় চার মাস ১৮ দিনে দানবাক্সগুলোতে জমা পড়া অর্থ গণনা করে পাওয়া যায় ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপাও উদ্ধার করা হয়েছিল।
পাগলা মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের টাকা গণনায় অংশ নিয়েছেন পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদরাসার ১১০ জন শিক্ষার্থী, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদরাসার ২৫০ জন শিক্ষার্থী, পাগলা মসজিদের ৩৩ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্য। সবাই সম্মিলিতভাবে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে গণনার কাজ করছেন।
জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দানবাক্স খুলে এবার ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে এবং গণনা শেষে প্রকৃত অঙ্ক জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ইসলামি কমপ্লেক্স গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই কমপ্লেক্সটি হবে ১০ তলাবিশিষ্ট, যেখানে অনাথ ও এতিমদের লেখাপড়ার ব্যবস্থা, ধর্মীয় ও মাদরাসাশিক্ষা, একটি সমৃদ্ধ পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া এবং আইটি সেকশন থাকবে।
বর্তমানে পাগলা মসজিদের আয়তন পাঁচ দশমিক পাঁচ একর হলেও ১০ তলাবিশিষ্ট আধুনিক ভবন নির্মাণের জন্য আরও কিছু জমি কেনা হবে বলে জানান তিনি। এই মুহূর্তে পাগলা মসজিদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দান হিসেবে জমা রয়েছে প্রায় ১০৪ কোটি টাকা। ইতোমধ্যে মসজিদ কমপ্লেক্সের নকশা জমা দিয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল যাচাই-বাছাই শেষে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দিয়েছে এবং দ্রুত কার্যাদেশ দিয়ে কাজ শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে টাকা বস্তাবন্দি করা, গণনা এবং ব্যাংকে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় তিনি নিজে ও তার অধীনস্থ পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।
দানবাক্স খোলার খবর পেয়ে মসজিদের আশপাশে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে এসে এই দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেন। বিশেষ করে শুক্রবারে মসজিদ এলাকায় মানুষের ভিড় আরও বাড়ে। পাগলা মসজিদে শুধু টাকা নয়, নিয়মিত হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলসহ নানা ধরনের জিনিসপত্র দান করেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ, যা এই মসজিদকে দেশের অন্যতম দানকেন্দ্রে পরিণত করেছে।



















