ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

ঘুষ দেওয়ায় শীর্ষে নোয়াখালী-কুমিল্লা-ফরিদপুর-ভোলার মানুষ

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১২:১০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭৮ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ঘুস দিচ্ছেন ধনী শ্রেণির মানুষ। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে ঘুস প্রদানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্যও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সরকারি সেবা পেতে ঘুস লেনদেনে দেশের শীর্ষে রয়েছে নোয়াখালী জেলা, আর সবচেয়ে কম ঘুস দেওয়ার জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) ২০২৫’ শীর্ষক জরিপের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

এ উপলক্ষে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিবিএস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার। জরিপের মূল তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন সিপিএস প্রকল্পের পরিচালক রাশেদ-ই মাসতাহাব।

জরিপে দেখা যায়, গত ১২ মাসে যারা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ঘুস দিয়েছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী শ্রেণির মানুষের হার সর্বোচ্চ—৩৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে দরিদ্র শ্রেণির মধ্যে এই হার ২৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ, আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুস দেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে বলে জরিপের ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বিবিএস জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ৬৪ জেলার ৪৫ হাজার ৮৮৮টি খানার ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সী মোট ৮৪ হাজার ৮০৭ জন নারী-পুরুষ এই জরিপে অংশ নেন। নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জরিপে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এবং বৈষম্য—টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১৬-এর ছয়টি অভীষ্টের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়।

ঘুস প্রদানের ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে চিত্রটি আরও বৈষম্যপূর্ণ। জরিপ অনুযায়ী, এক বছরে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগকারী নাগরিকদের মধ্যে নোয়াখালী জেলায় ৫৭ দশমিক ১৭ শতাংশ ঘুস দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুমিল্লা, যেখানে ঘুস লেনদেনের হার ৫৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এরপর ফরিদপুরে ৫১ দশমিক ৭০ শতাংশ, ভোলায় ৪৯ দশমিক ০১ শতাংশ এবং সিরাজগঞ্জে ৪৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ মানুষ সরকারি সেবা পেতে ঘুস দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানান। এসব জেলার হার জাতীয় গড় ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।

অন্যদিকে, কিছু জেলায় ঘুস প্রদানের হার তুলনামূলকভাবে কম। সবচেয়ে কম ঘুস দেওয়ার জেলা হিসেবে উঠে এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যেখানে এই হার মাত্র ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়া মাগুরায় ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ, লালমনিরহাটে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, গাজীপুরে ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং সিলেটে ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ মানুষ সরকারি সেবা পেতে ঘুস দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

আয়ের স্তর অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘুস দেওয়ার হার ৩২ দশমিক ২৪ শতাংশ, আর উচ্চ-মধ্যম আয়ের ক্ষেত্রে এই হার দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৬০ শতাংশে।

বিবিএসের কর্মকর্তারা মনে করেন, এই জরিপের ফলাফল প্রমাণ করে যে দুর্নীতি শুধু দারিদ্র্যজনিত সমস্যা নয়; বরং এটি একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ও আচরণগত সংকট। সরকারি সেবার মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে আয় বাড়লেও ঘুস ও দুর্নীতির প্রবণতা কমবে না বলেও তারা মত দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ঘুষ দেওয়ায় শীর্ষে নোয়াখালী-কুমিল্লা-ফরিদপুর-ভোলার মানুষ

আপডেট সময় : ১২:১০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

দেশে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে সবচেয়ে বেশি ঘুস দিচ্ছেন ধনী শ্রেণির মানুষ। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে ঘুস প্রদানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্যও স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সরকারি সেবা পেতে ঘুস লেনদেনে দেশের শীর্ষে রয়েছে নোয়াখালী জেলা, আর সবচেয়ে কম ঘুস দেওয়ার জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘সিটিজেন পারসেপশন সার্ভে (সিপিএস) ২০২৫’ শীর্ষক জরিপের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

এ উপলক্ষে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যান ভবনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিবিএস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব এস এম শাকিল আখতার। জরিপের মূল তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন সিপিএস প্রকল্পের পরিচালক রাশেদ-ই মাসতাহাব।

জরিপে দেখা যায়, গত ১২ মাসে যারা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং ঘুস দিয়েছেন, তাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী শ্রেণির মানুষের হার সর্বোচ্চ—৩৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে দরিদ্র শ্রেণির মধ্যে এই হার ২৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ, আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুস দেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে বলে জরিপের ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

বিবিএস জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের ৬৪ জেলার ৪৫ হাজার ৮৮৮টি খানার ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সী মোট ৮৪ হাজার ৮০৭ জন নারী-পুরুষ এই জরিপে অংশ নেন। নাগরিকদের দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জরিপে নিরাপত্তা, সুশাসন, সরকারি সেবার মান, দুর্নীতি, ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার এবং বৈষম্য—টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১৬-এর ছয়টি অভীষ্টের অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়।

ঘুস প্রদানের ক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে চিত্রটি আরও বৈষম্যপূর্ণ। জরিপ অনুযায়ী, এক বছরে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগকারী নাগরিকদের মধ্যে নোয়াখালী জেলায় ৫৭ দশমিক ১৭ শতাংশ ঘুস দেওয়ার কথা জানিয়েছেন, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কুমিল্লা, যেখানে ঘুস লেনদেনের হার ৫৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এরপর ফরিদপুরে ৫১ দশমিক ৭০ শতাংশ, ভোলায় ৪৯ দশমিক ০১ শতাংশ এবং সিরাজগঞ্জে ৪৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ মানুষ সরকারি সেবা পেতে ঘুস দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা জানান। এসব জেলার হার জাতীয় গড় ৩১ দশমিক ৬৭ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।

অন্যদিকে, কিছু জেলায় ঘুস প্রদানের হার তুলনামূলকভাবে কম। সবচেয়ে কম ঘুস দেওয়ার জেলা হিসেবে উঠে এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, যেখানে এই হার মাত্র ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এছাড়া মাগুরায় ১৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ, লালমনিরহাটে ১৪ দশমিক ৫০ শতাংশ, গাজীপুরে ১৫ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং সিলেটে ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ মানুষ সরকারি সেবা পেতে ঘুস দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

আয়ের স্তর অনুযায়ী বিশ্লেষণে দেখা যায়, মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘুস দেওয়ার হার ৩২ দশমিক ২৪ শতাংশ, আর উচ্চ-মধ্যম আয়ের ক্ষেত্রে এই হার দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ৬০ শতাংশে।

বিবিএসের কর্মকর্তারা মনে করেন, এই জরিপের ফলাফল প্রমাণ করে যে দুর্নীতি শুধু দারিদ্র্যজনিত সমস্যা নয়; বরং এটি একটি গভীর প্রাতিষ্ঠানিক ও আচরণগত সংকট। সরকারি সেবার মান ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে আয় বাড়লেও ঘুস ও দুর্নীতির প্রবণতা কমবে না বলেও তারা মত দেন।