ঢাকা ০৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

ভারতে বড়দিন উদযাপনে বাধা ও হামলার অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ১১:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭৬ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভারতে খ্রিষ্টানদের বড়দিন উদযাপনে ফের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) আসামের নালবাড়ি জেলায় একটি স্কুলে বড়দিন উপলক্ষে করা সাজসজ্জা ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন ভিএইচপি ও বজরং দলের কয়েকজন সদস্য নালবাড়ির পানিগাঁও গ্রামের সেন্ট মেরিস স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে বড়দিনের সাজসজ্জা ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ইন্ডিয়া টুডে এনই প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দিতে বড়দিনের সাজসজ্জায় আগুন দিচ্ছে।

একই দিনে নালবাড়ির আরেকটি ঘটনায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন বজরং দলের সদস্য একটি দোকানে রাখা বড়দিনের সাজসজ্জার সামগ্রী পুড়িয়ে দেয় এবং দোকানটি বন্ধ করতে বাধ্য করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আসাম লাইভ জানায়, দোকানদারের দাবি—তিনি জানতেন না যে বড়দিনের সাজসজ্জার সামগ্রী বিক্রি করা যাবে না। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তরা পণ্যগুলো নর্দমায় ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বড়দিন ঘিরে খ্রিষ্টানদের ওপর হামলা বা উৎসব ব্যাহত করার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। কেরালার পালাক্কাড় জেলার পুদুস্সেরি গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্যারল গান গাওয়ার সময় শিশুদের একটি দলের ওপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে গঙ্গার তীরে রাজ্য পর্যটন দপ্তর পরিচালিত একটি হোটেল বড়দিনের অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। গঙ্গা সভার ডাকে হওয়া প্রতিবাদের মুখে কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে দিল্লির লাজপত নগরের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সান্তা ক্লজের টুপি পরা নারী ও শিশুদের হুমকি দিতে দেখা যায়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এটি সামান্য মৌখিক বিরোধ ছিল এবং তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে রূপ নেয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব ইন্ডিয়া (সিবিসিআই) দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বড়দিনের আগে খ্রিষ্টানদের ওপর হামলার ‘উদ্বেগজনক বৃদ্ধি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংগঠনটি জানায়, এ ধরনের ঘটনা ভারতের সংবিধানে প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নির্ভয়ে উপাসনার অধিকারের পরিপন্থি।

বিশেষ করে মধ্য প্রদেশের জবলপুরে একটি গির্জায় বড়দিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এক নারীকে বিজেপির স্থানীয় নেত্রী অঞ্জু ভার্গভা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তারা ‘মর্মাহত’ বলে জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নেত্রী নারীর বিরুদ্ধে ধর্মান্তরের অভিযোগ তোলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে একজন পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ভারতে বড়দিন উদযাপনে বাধা ও হামলার অভিযোগ, বিভিন্ন রাজ্যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি

আপডেট সময় : ১১:১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতে খ্রিষ্টানদের বড়দিন উদযাপনে ফের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে। গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) আসামের নালবাড়ি জেলায় একটি স্কুলে বড়দিন উপলক্ষে করা সাজসজ্জা ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) ও বজরং দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দিন ভিএইচপি ও বজরং দলের কয়েকজন সদস্য নালবাড়ির পানিগাঁও গ্রামের সেন্ট মেরিস স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে বড়দিনের সাজসজ্জা ও পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে এবং তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। ইন্ডিয়া টুডে এনই প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিতে দিতে বড়দিনের সাজসজ্জায় আগুন দিচ্ছে।

একই দিনে নালবাড়ির আরেকটি ঘটনায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন বজরং দলের সদস্য একটি দোকানে রাখা বড়দিনের সাজসজ্জার সামগ্রী পুড়িয়ে দেয় এবং দোকানটি বন্ধ করতে বাধ্য করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আসাম লাইভ জানায়, দোকানদারের দাবি—তিনি জানতেন না যে বড়দিনের সাজসজ্জার সামগ্রী বিক্রি করা যাবে না। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তরা পণ্যগুলো নর্দমায় ফেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বড়দিন ঘিরে খ্রিষ্টানদের ওপর হামলা বা উৎসব ব্যাহত করার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। কেরালার পালাক্কাড় জেলার পুদুস্সেরি গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্যারল গান গাওয়ার সময় শিশুদের একটি দলের ওপর হামলার ঘটনায় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে গঙ্গার তীরে রাজ্য পর্যটন দপ্তর পরিচালিত একটি হোটেল বড়দিনের অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে। গঙ্গা সভার ডাকে হওয়া প্রতিবাদের মুখে কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে দিল্লির লাজপত নগরের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সান্তা ক্লজের টুপি পরা নারী ও শিশুদের হুমকি দিতে দেখা যায়। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এটি সামান্য মৌখিক বিরোধ ছিল এবং তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে রূপ নেয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব ইন্ডিয়া (সিবিসিআই) দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বড়দিনের আগে খ্রিষ্টানদের ওপর হামলার ‘উদ্বেগজনক বৃদ্ধি’ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংগঠনটি জানায়, এ ধরনের ঘটনা ভারতের সংবিধানে প্রদত্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নির্ভয়ে উপাসনার অধিকারের পরিপন্থি।

বিশেষ করে মধ্য প্রদেশের জবলপুরে একটি গির্জায় বড়দিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এক নারীকে বিজেপির স্থানীয় নেত্রী অঞ্জু ভার্গভা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় তারা ‘মর্মাহত’ বলে জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই নেত্রী নারীর বিরুদ্ধে ধর্মান্তরের অভিযোগ তোলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে একজন পুলিশ সদস্য উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।