বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লিবিয়ার সেনাপ্রধান আল-হাদ্দাদসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত
- আপডেট সময় : ১০:৫১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬৫ বার পড়া হয়েছে
তুরস্ক থেকে লিবিয়ায় ফেরার পথে একটি প্রাইভেট জেট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে লিবিয়ার সেনাপ্রধান আল-হাদ্দাদসহ একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী আবদুলহামিদ দবেইবা এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, দুর্ঘটনায় আল-হাদ্দাদের সঙ্গে নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্থলবাহিনীর চিফ অব স্টাফ, সামরিক শিল্প কর্তৃপক্ষের প্রধান, সেনাপ্রধানের একজন উপদেষ্টা এবং সামরিক মিডিয়া অফিসের একজন আলোকচিত্রী। তারা সবাই একই বিমানে করে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে লিবিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী দবেইবা গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করে বলেন, অত্যন্ত বেদনাবিধুর মন নিয়ে তিনি এই দুঃসংবাদ পেয়েছেন। তিনি আল-হাদ্দাদ ও তার প্রতিনিধিদলের সদস্যদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে একে জাতি ও সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, লিবিয়া এমন সব মানুষকে হারাল যারা নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা ও জাতীয় দায়বদ্ধতার সঙ্গে দেশের সেবা করে গেছেন। নিহতদের পরিবার, সামরিক সহকর্মী এবং সমগ্র লিবিয়ান জনগণের প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা জানান।
এর আগে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়্যারলিকায়া জানান, আঙ্কারা থেকে লিবিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করা একটি প্রাইভেট জেটের ধ্বংসাবশেষ আঙ্কারার হায়মানা জেলায় পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ওই জেটে লিবিয়ার সেনাপ্রধান আল-হাদ্দাদ উপস্থিত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ইয়্যারলিকায়ার তথ্যমতে, আঙ্কারার এসেনবোবা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের অল্প সময়ের মধ্যেই ফ্যালকন–৫০ মডেলের বিজনেস জেটটির সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় সময় রাত ৮টা ১০ মিনিটে ত্রিপোলির উদ্দেশে উড্ডয়ন করা বিমানটির সঙ্গে রাত ৮টা ৫২ মিনিটে সম্পূর্ণভাবে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।
মন্ত্রী আরও জানান, আঙ্কারার দক্ষিণে হায়মানা জেলার কাছে বিমানটি জরুরি অবতরণের সংকেত পাঠিয়েছিল। তবে সেই প্রাথমিক সংকেতের পর আর কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বিমানে আল-হাদ্দাদসহ মোট পাঁচজন যাত্রী ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে তুর্কি গণমাধ্যম এনটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী আঙ্কারার আকাশসীমায় প্রাইভেট জেটটির সঙ্গে রেডিও যোগাযোগ হারিয়ে যাওয়ার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসেনবোবা বিমানবন্দর থেকে একাধিক ফ্লাইট অন্যদিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তুরস্কের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।























