প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারসহ গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৯
- আপডেট সময় : ১১:০৫:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ ৭২ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ – দেশজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার এবং দুটি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সোমবার সকাল পর্যন্ত এই গ্রেফতার কার্যক্রম শেষ হয়েছে বলে অফিসিয়াল সূত্রে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি সাম্প্রতিক সহিংস বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় ঘটে, যেখানে দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, এবং গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা চোখে পড়েছে। বিশেষত প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর কার্যালয়ে পরিকল্পিত আক্রমণে অফিসের জিনিসপত্র ভাঙচুর, দফতর অগ্নিকাণ্ড এবং কর্মীদের উপর আক্রমণের মতো ঘটনাগুলি সংঘটিত হয়।
গ্রেফতারকৃত ৯ জনের মধ্যে সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে; তারা হলেন:
- মো. কাশেম ফারুক
- মো. সাইদুর রহমান
- রাকিব হোসেন
- মো. নাইম
- ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত
- মো. সোহেল রানা
- মো. শফিকুল ইসলাম
এছাড়া পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ আরও দুইজনকে আটক করেছে, যাদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে।গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রাকিব হোসেনকে ভিডিও ফুটেজে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য শনাক্ত করা হয়েছে, এবং তার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে উসকানিমূলক পোস্ট ও ভাঙচুরের ছবি পোস্ট করার তথ্য পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাছে লুট হওয়া অর্থসহ গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে মোট ১,২৩,০০০ টাকা লুট করার কথা স্বীকার করেছে, যা দিয়ে মোহাম্মদপুর থেকে একটি টিভি ও ফ্রিজ কেনা হয়েছিল বলে জানা গেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্যান্য আইনে ১৩টি মামলা, এবং শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অতীতে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে দুটি মামলা রয়েছে। বাকিদের বিষয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৮ ডিসেম্বরের রাতে দেশব্যাপী সহিংস বিক্ষোভের সময় প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার–এর ঢাকা কার্যালয়ে সমন্বিত হামলা হয়। হামলাকারীরা অফিস ভাঙচুর ও জ্বালিয়ে দিয়ে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালায়, এবং অন্তত তখন ২৮ জন সাংবাদিক ও কর্মী ভবনের ছাদে আটকা পড়ে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের উদ্ধার করে।
ঘটনাটি সম্পর্কে বিশ্লেষকরা বলছেন যে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, শরীফ ওসমান হাদি–এর মৃত্যুর প্রতিবাদের চাপ ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর উসকানিমূলক বক্তব্য হামলার পেছনে গুরুতর ভূমিকা রাখতে পারে।
মিডিয়া কর্মীরা এই সহিংসতা ও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। বিভিন্ন প্রান্তিক সাংবাদিক সংগঠন ও প্রেস ক্লাব থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচিও দৃঢ়তার সঙ্গে চালানো হয়েছে।



















