ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সামনে তিপরা মোথা যুব সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচি

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৮৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগরতলা, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ — ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলায় স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন Youth Tipra Federation (YTF) নামে একটি যুব শাখা বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের অফিসের সামনে বৃহৎ বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভের কারণে ওই কূটনৈতিক ভবনের সামনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। বিক্ষোভটি বাংলাদেশের এক রাজনৈতিক নেতার মন্তব্য এবং ঐ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পর্কে প্রকাশিত বক্তব্যকে ঘিরে সংগঠিত হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা দাবি করেছে যে, বাংলাদেশ থেকে কিছু “বিরূপ রেটিং” বা রুচিহীন বক্তব্য এসেছে যা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতি অসম্মানজনক এবং বিপজ্জনক।

প্রতিবাদকারীদের বক্তব্যে বিশেষ করে নিম্নলিখিত ইস্যুগুলো উঠে এসেছে:
• বাংলাদেশ থেকে এমন ধরণের মন্তব্য এসেছে, যেখানে উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যকে আলাদা বা “সেভেন সিস্টার্স” হিসেবে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি বা উপহাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
• YTF নেতা Suraj Debbarma বলেন, “ভারত ছিল একমাত্র সহায়ক শক্তি যা ১৯৭১-এ বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে, কিন্তু আজ আমাদেরকে শত্রু হিসেবে দেখা হচ্ছে।”
• তিনি আরও দাবি করেন যে, “বাংলাদেশের কিছু নেতারা উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রভাব বিস্তার বা আক্রমণাত্মক নীতির কণ্ঠস্বর ব্যবহার করছেন” এবং এজন্য কঠোর প্রতিবাদ করা হচ্ছে।

• বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করে এবং তারা বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের সামনে প্রতিবাদী স্লোগান দেয়।
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল এবং বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, যাতে কোনও অশান্তি বা সহিংসতা সৃষ্টি না হয়।

YTF বা Youth Tipra Federation বলেছে যে এই বিক্ষোভ সীমান্তবর্তী জনগণের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়। তারা দাবি করেছে যে, এমন মন্তব্য ও কার্যকলাপ উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কিছুটা সক্রিয় রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। এর পেছনে স্থানীয় রাজনীতি, ২০২৪ ও ২০২৫-এর বিভিন্ন ঘটনাবলি, এবং দুই দেশের মাঝে রাজনৈতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবাদ-সমাবেশ ভূমিকা রাখছে। এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভগুলো প্রায়ই আঞ্চলিক অনুভূতি ও পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করছে।

কেবল আগরতলায় নয়, এর আগেও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ উপলক্ষে বা কূটনৈতিক ইস্যুতে প্রতিবাদ এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধির ঘটনা দেখা গেছে। আগরতলা মিশনে গত বছর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও উগ্র বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে উভয় দেশের কূটনৈতিক স্তরে প্রতিক্রিয়া গিয়েছিল।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সামনে তিপরা মোথা যুব সংগঠনের বিক্ষোভ কর্মসূচি

আপডেট সময় : ০৪:৪৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫

আগরতলা, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ — ভারতের উত্তর-পূর্ব রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলায় স্থানীয় আদিবাসী সংগঠন Youth Tipra Federation (YTF) নামে একটি যুব শাখা বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের অফিসের সামনে বৃহৎ বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভের কারণে ওই কূটনৈতিক ভবনের সামনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে। বিক্ষোভটি বাংলাদেশের এক রাজনৈতিক নেতার মন্তব্য এবং ঐ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল সম্পর্কে প্রকাশিত বক্তব্যকে ঘিরে সংগঠিত হয়েছে। প্রতিবাদকারীরা দাবি করেছে যে, বাংলাদেশ থেকে কিছু “বিরূপ রেটিং” বা রুচিহীন বক্তব্য এসেছে যা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতি অসম্মানজনক এবং বিপজ্জনক।

প্রতিবাদকারীদের বক্তব্যে বিশেষ করে নিম্নলিখিত ইস্যুগুলো উঠে এসেছে:
• বাংলাদেশ থেকে এমন ধরণের মন্তব্য এসেছে, যেখানে উত্তর-পূর্ব ভারতের একাধিক রাজ্যকে আলাদা বা “সেভেন সিস্টার্স” হিসেবে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি বা উপহাস করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
• YTF নেতা Suraj Debbarma বলেন, “ভারত ছিল একমাত্র সহায়ক শক্তি যা ১৯৭১-এ বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে, কিন্তু আজ আমাদেরকে শত্রু হিসেবে দেখা হচ্ছে।”
• তিনি আরও দাবি করেন যে, “বাংলাদেশের কিছু নেতারা উত্তর-পূর্ব ভারতে প্রভাব বিস্তার বা আক্রমণাত্মক নীতির কণ্ঠস্বর ব্যবহার করছেন” এবং এজন্য কঠোর প্রতিবাদ করা হচ্ছে।

• বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করে এবং তারা বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের সামনে প্রতিবাদী স্লোগান দেয়।
পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন ছিল এবং বিক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, যাতে কোনও অশান্তি বা সহিংসতা সৃষ্টি না হয়।

YTF বা Youth Tipra Federation বলেছে যে এই বিক্ষোভ সীমান্তবর্তী জনগণের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এবং কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়। তারা দাবি করেছে যে, এমন মন্তব্য ও কার্যকলাপ উত্তেজনা সৃষ্টি করছে এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের স্বার্থকে ক্ষুণ্ন করছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কিছুটা সক্রিয় রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। এর পেছনে স্থানীয় রাজনীতি, ২০২৪ ও ২০২৫-এর বিভিন্ন ঘটনাবলি, এবং দুই দেশের মাঝে রাজনৈতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিভিন্ন প্রতিবাদ-সমাবেশ ভূমিকা রাখছে। এমন পরিস্থিতিতে বিক্ষোভগুলো প্রায়ই আঞ্চলিক অনুভূতি ও পরিস্থিতিকে প্রতিফলিত করছে।

কেবল আগরতলায় নয়, এর আগেও বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ উপলক্ষে বা কূটনৈতিক ইস্যুতে প্রতিবাদ এবং নিরাপত্তা বৃদ্ধির ঘটনা দেখা গেছে। আগরতলা মিশনে গত বছর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেও উগ্র বিক্ষোভ ও হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে উভয় দেশের কূটনৈতিক স্তরে প্রতিক্রিয়া গিয়েছিল।