চিকিৎসার জন্য ৯ মে লন্ডন যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন
- আপডেট সময় : ১০:৩৪:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
চিকিৎসা ও নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ৯ মে লন্ডন সফরে যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী তিনি ওইদিন দেশ ত্যাগ করবেন এবং সফর শেষে ১৭ মে দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
জানা গেছে, সফরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে থাকবেন তার সহধর্মিণী ডা. রেবেকা সুলতানা এবং ৬ থেকে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। লন্ডনের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করবেন বলে জানা গেছে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সফরটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাজনিত এবং এতে কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নেই। সফরের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তিনি যাত্রা করবেন।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি করান। এরপর থেকে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে তার বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে তার বয়স প্রায় ৭৬ বছর।
এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে তার হার্টের বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের মার্চে দুবাই হয়ে লন্ডনে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে যান। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি চিকিৎসা বা নিয়মিত চেকআপের জন্য দেশের বাইরে যেতে পারেননি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তার চিকিৎসা বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে চাইলেও অনুমতি পাননি বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে তিনি এক গণমাধ্যমে অভিযোগ করে বিষয়টিকে মানসিক চাপ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন।
সাধারণত রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা দেশের ভেতরেই সম্পন্ন করা হয়। তবে বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে বিদেশে যেতে হয়। আন্তর্জাতিক মানের কিছু পরীক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধা বিদেশেই পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে রাষ্ট্রপতির এই সফরের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রাষ্ট্রপতির এই আসন্ন লন্ডন সফরকে তার পূর্ববর্তী স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সফরের ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।



















