সাতক্ষীরায় এলজিইডি অফিসে ঘুষ কেলেঙ্কারি, হিসাবরক্ষক সাময়িক বরখাস্ত
- আপডেট সময় : ০৩:২১:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ে আলোচিত ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) হিসাবরক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক স্মারকে এ আদেশ জারি করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তাকে অফিসের টেবিলে বসে টাকা গ্রহণ করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন। একইসঙ্গে কেন তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ কেলেঙ্কারি চাপা দিতে অফিস থেকে সিসিটিভি ক্যামেরা সরিয়ে ফেলা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবদের কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহের জন্য দৌড়ঝাঁপ চালান তিনি। অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেনের নাম ব্যবহার করে এসব প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এদিকে, তার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর ব্যক্তিগত অসদাচরণের অভিযোগও উঠেছে। অফিসের এক নারী কর্মীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং অনৈতিক আচরণের অভিযোগ করেছেন সহকর্মীরা। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই নারী কর্মীকে অফিস থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এর আগে তাকে অন্যত্র বদলির উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি। বরং তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অভিযোগের বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একটি পক্ষ তাকে হেয় করতে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন সিসিটিভি অপসারণের বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণ ছিল তার নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।



















