সাতক্ষীরার সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলে অনিয়মের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:৫৩:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরার শহরের মিল বাজার এলাকায় অবস্থিত সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল-এর রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে মিলের ইনচার্জ শফিউল বাশারের বিরুদ্ধে। প্রায় ৩০ একর জমির ওপর ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মিলটি একসময় জেলার অর্থনীতি ও বেকারত্ব দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে তা প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরের সম্পদ এখন নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি সিদ্ধান্তে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় মিল এলাকায় লোকসমাগম কমে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে স্থবিরতা। এই সুযোগে মিলের ভেতরে থাকা সরকারি সম্পদ তছরূপের অভিযোগ উঠেছে, যেখানে মিল ইনচার্জ শফিউল বাশারের নাম সামনে এসেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কোনো ধরনের দরপত্র ছাড়াই বিভিন্ন মালামাল বিক্রি করা হয়েছে। পুকুর থেকে বালু ও মাটি উত্তোলন করে বিক্রি, মাছ বিক্রি, আলাদা বিদ্যুৎ বিল তৈরি, দৈনিক মজুরি শ্রমিকদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ, বহিরাগতদের ঘর ভাড়া দিয়ে টাকা নেওয়া এবং সরকারি গাছ বিক্রি—এমন নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রভাব খাটিয়ে তালতলা এলাকার এক মাটি ব্যবসায়ীর মাধ্যমে পুকুর খনন করে মাটি বিক্রি করা হয়। এ নিয়ে সে সময় গণমাধ্যমে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর পরিস্থিতি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
২০১৩ সালে দায়িত্ব নেওয়া এই কর্মকর্তা দীর্ঘ ১৩ বছর একই পদে বহাল থাকায় মিলটিকে ব্যক্তিগত সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তার যোগদানের পর থেকেই মিলের সবকিছু তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে এবং কর্মচারীরাও তার প্রভাবের কারণে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন।
একজন কর্মচারী জানান, মিলের ভেতরের ফলজ গাছসহ বিভিন্ন সম্পদ নিজের সিদ্ধান্তে বিক্রি করে দেন তিনি। কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও তার আচরণে পরিবর্তন আসে না বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মিলের ভেতরে ভাড়া থাকা এক বাসিন্দা জানান, তারা একটি ফ্ল্যাটের জন্য মাসে ৩ হাজার ৬০০ টাকা ভাড়া দেন এবং বিদ্যুৎ বিল বাবদ মার্চ মাসে ১ হাজার ৮৫০ টাকা পরিশোধ করেছেন। দুটি ভবনে প্রায় ২০টি ফ্ল্যাট এবং টিনশেড মিলিয়ে ৭০ থেকে ৮০টি পরিবার বসবাস করছে বলে জানা গেছে। এসব ভাড়া ও বিল আদায়ের বিষয়টি দেখভাল করেন সিকিউরিটি ইনচার্জ বাদশা আলম।
এ বিষয়ে বাদশা আলম বলেন, তারা মোট ১৭ জন কর্মচারী সেখানে কাজ করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশেই সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংগৃহীত অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হয় সে বিষয়ে তারা অবগত নন।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মিল ইনচার্জ শফিউল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি এড়িয়ে যান। বাংলাদেশ বস্ত্র শিল্প করপোরেশন-এর প্রায় ২৯ দশমিক ৪৭ একর জমির এই প্রতিষ্ঠানের সম্পদ একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন সচেতন মহল। দ্রুত তাকে বদলি করে মিলটির শৃঙ্খলা ও কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।










