ঢাকা ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রেগুলেটরি বোর্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ: শিক্ষামন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৬:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল—শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানই নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকতে পারবে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে একটি রেগুলেটরি বোর্ডের আওতায় আনার জন্য ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট কার্যক্রম সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মন্ত্রী জানান, সরকার শিক্ষা খাতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় ২২টি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক বিতরণ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদারসহ নানা উদ্যোগ রয়েছে।

নকলের সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে নকলের ধরন ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। তাই শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, এর মূল কারণ খুঁজে সমাধান করতে হবে। শিক্ষার মান, শিক্ষক ও কারিকুলাম উন্নত না হলে নকল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

শিক্ষকদের মানোন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেতন স্কেল, মেডিকেল ভাতা ও হাউস রেন্ট বৃদ্ধির বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে অস্বাভাবিক ওঠানামা একটি উদ্বেগের বিষয়। খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং র্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে মান যাচাই করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নজরদারির জন্য নয়, বরং শিক্ষা কার্যক্রমের মান পর্যবেক্ষণের জন্য। প্রযুক্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্লাস পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। শিক্ষক, প্রশাসন ও অভিভাবক সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, নইলে দেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রেগুলেটরি বোর্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৬:০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল—শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হবে। কোনো প্রতিষ্ঠানই নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকতে পারবে না বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকালে সিলেটের জালালাবাদ গ্যাস অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে সিলেট শিক্ষা বোর্ড এবং সিলেট অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোকে একটি রেগুলেটরি বোর্ডের আওতায় আনার জন্য ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। শিগগিরই এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে সহশিক্ষা কার্যক্রম যেমন বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্কাউট কার্যক্রম সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মন্ত্রী জানান, সরকার শিক্ষা খাতে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় ২২টি উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক বিতরণ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম জোরদারসহ নানা উদ্যোগ রয়েছে।

নকলের সমস্যা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে নকলের ধরন ডিজিটাল রূপ নিয়েছে। তাই শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, এর মূল কারণ খুঁজে সমাধান করতে হবে। শিক্ষার মান, শিক্ষক ও কারিকুলাম উন্নত না হলে নকল পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

শিক্ষকদের মানোন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, এনটিআরসিএর মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেতন স্কেল, মেডিকেল ভাতা ও হাউস রেন্ট বৃদ্ধির বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার ফলাফলে অস্বাভাবিক ওঠানামা একটি উদ্বেগের বিষয়। খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে এবং র্যান্ডম স্যাম্পলিংয়ের মাধ্যমে মান যাচাই করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের নজরদারির জন্য নয়, বরং শিক্ষা কার্যক্রমের মান পর্যবেক্ষণের জন্য। প্রযুক্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে ক্লাস পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সব মিলিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা। শিক্ষক, প্রশাসন ও অভিভাবক সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, নইলে দেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিতে পড়বে।