ঢাকা ১২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক সপ্তাহে শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়ার আশা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর টঙ্গীতে প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসনে কৃত্রিম পা ও চাকরির সুযোগ নোয়াখালী কলেজে শিক্ষক হেনস্তা নিয়ে মানববন্ধন ও উত্তেজনা নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়তে ড্রোন প্রযুক্তি উন্মোচন করল নাইজেরিয়া ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি বগুড়া থেকে গ্রেপ্তার পাকুন্দিয়ায় প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ৩ লাখ টাকার আত্মসাতের অভিযোগ মাদারগঞ্জে কালবৈশাখীর পর ৪ দিন ধরে বিদ্যুৎহীন ১৫ গ্রাম বাড্ডায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হাসপাতালে দুইজন দক্ষিণ লেবাননে হামলা জোরদার, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে ঢাকায় প্রথমবার নারী ডিসি ও এসপি একসঙ্গে দায়িত্বে

দৌলতপুরে ‘ভণ্ড পীর’কে পিটিয়ে হত্যা, আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

অনলাইন ডেস্ক । বাংলাপত্রিকা চ্যানেল
  • আপডেট সময় : ০৬:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা এর ফিলিপনগর ইউনিয়নে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মারধরে পীর শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) নিহত হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শামীমের অন্তত সাতজন অনুসারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, শামীম রেজা স্থানীয়ভাবে ভণ্ড পীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তিনি নিজেকে কখনো আল্লাহ, কখনো নবী বা ভগবান দাবি করতেন। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

স্থানীয়দের দাবি, তিনি ইসলামবিরোধী বক্তব্য প্রচার করতেন এবং নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদত অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন। এমনকি অনুসারীদের হজ পালনের জন্য মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি বাঁশবাগানের দরবারে যাওয়ার নির্দেশ দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া তার অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী বিধান উপেক্ষা করে ঢাকঢোল বাজানো, ‘হরে শামীম’ ধ্বনি দেওয়া এবং বিভিন্ন অস্বাভাবিক আচারের প্রচলনের অভিযোগও উঠেছে। পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

ঘটনার দিন সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।

ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে শামীম রেজা ঢাকায় মাস্টার্স সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের হয়। সে সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। পরে মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় শামীম রেজা জাহাঙ্গীর নিহত হয়েছেন। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

দৌলতপুরে ‘ভণ্ড পীর’কে পিটিয়ে হত্যা, আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৪১:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা এর ফিলিপনগর ইউনিয়নে ইসলাম ধর্ম বিকৃতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর মারধরে পীর শামীম রেজা (জাহাঙ্গীর) নিহত হয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে।

দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে দৌলতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় শামীমের অন্তত সাতজন অনুসারী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, শামীম রেজা স্থানীয়ভাবে ভণ্ড পীর হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তিনি নিজেকে কখনো আল্লাহ, কখনো নবী বা ভগবান দাবি করতেন। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

স্থানীয়দের দাবি, তিনি ইসলামবিরোধী বক্তব্য প্রচার করতেন এবং নামাজ, রোজা, হজ ও জাকাতসহ ইসলামের মৌলিক ইবাদত অস্বীকার করে ভিন্নধর্মী মতবাদ প্রচার করতেন। এমনকি অনুসারীদের হজ পালনের জন্য মক্কায় না গিয়ে স্থানীয় একটি বাঁশবাগানের দরবারে যাওয়ার নির্দেশ দিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া তার অনুসারীদের দাফনের সময় প্রচলিত ইসলামী বিধান উপেক্ষা করে ঢাকঢোল বাজানো, ‘হরে শামীম’ ধ্বনি দেওয়া এবং বিভিন্ন অস্বাভাবিক আচারের প্রচলনের অভিযোগও উঠেছে। পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে।

ঘটনার দিন সকাল থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে এবং তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে।

ফিলিপনগর গ্রামের মৃত জেছের আলী মাস্টারের ছেলে শামীম রেজা ঢাকায় মাস্টার্স সম্পন্ন করে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা গড়ে তোলেন এবং ধীরে ধীরে বিতর্কিত ধর্মীয় কার্যক্রম শুরু করেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের হয়। সে সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। পরে মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় শামীম রেজা জাহাঙ্গীর নিহত হয়েছেন। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।